Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

অভিবাসন খাত নিয়ে শ্বেতপত্রের সতর্কবার্তা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৮

অভিবাসন খাত নিয়ে শ্বেতপত্রের সতর্কবার্তা

বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসন খাত নিয়ে সরকারের শ্বেতপত্রে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বৈদেশিক শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার পরও নতুন লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়ায় অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, দুর্নীতি ও বাজারের অস্থিতিশীলতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকায় এ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ প্রতিবেদন। 

২০২৪ সালের শেষের দিকে প্রকাশিত অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রিক্রুটিং এজেন্সির নজিরবিহীন বিস্তারকে বড় কাঠামোগত দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ২০১৫ সালে যেখানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সির সংখ্যা ছিল ৯২৩টি, ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৫০০। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, দুর্বল তদারকি ও দুর্নীতিকে এই বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।  

কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারও একই পথে হাঁটছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) গত বছরের নভেম্বর মাসে ২৫২টি নতুন লাইসেন্স অনুমোদন দিয়েছে। ফলে বর্তমানে মোট এজেন্সির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪৬টি। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাজারের আকার ও প্রশাসনিক কাঠামোর তুলনায় এজেন্সির সংখ্যা অনেক কম। নেপালে ৪১৬টি, শ্রীলঙ্কায় ২৪৮টি, মিয়ানমারে প্রায় ৬০০টি, ভারতে ১৯২টি এবং পাকিস্তানে মাত্র ৪৬৪টি এজেন্সি রয়েছে।  

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ১৮৮টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও ১৯১টি স্থগিত করা হলেও একই বছরে ২৫২টি নতুন লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি ঘোষিত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা অবৈধ ভিসা ব্যবসার পথ প্রশস্ত করে এবং অভিবাসন ব্যয় বাড়ায়। সরকারিভাবে নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে বাস্তবে কর্মীদের তিন থেকে চার গুণ বেশি অর্থ দিতে হয়।  

রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, সরকারের উচিত ছিল দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটে জড়িত এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স বাতিল করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তার মতে, বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে ৮০০টি এজেন্সিই যথেষ্ট। অথচ একদিকে কিছু লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে- এই দ্বিমুখী অবস্থান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করছে।  

বায়রার অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো দাবি করছে, নতুন লাইসেন্স পাওয়া অনেক মালিক আগে ভিসা বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাইসেন্সিং ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে স্বচ্ছ র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। ভারতের মতো বড় শ্রমবাজারেও এজেন্সির সংখ্যা সীমিত, কারণ সেখানে কেবল মানসম্মত সেবা প্রদানকারীরাই টিকে থাকতে পারে।  

অভিবাসন খাতের এই দ্বিমুখী নীতি নিয়ে বিতর্ক চললেও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, খাতটিকে আরো প্রতিযোগিতামূলক ও দক্ষ করে তুলতেই নতুন লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার সময়ে এই সিদ্ধান্ত অভিবাসন খাতকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

Logo