আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাস যত ঘনিয়ে আসছে, দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স ততই বাড়ছে। চলতি মাসের প্রথম সাত দিনে দেশে এসেছে ৯০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৮ শতাংশ বেশি। সদ্য বিদায়ী ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয় ৩২২ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের বরাতে দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে, বাড়তি প্রবাসী আয়ের বড় অংশই নির্বাচনী খরচ মেটাতে আসছে। বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা অনেক প্রার্থীর জন্য তহবিল সংগ্রহ করছেন এবং তা রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে পাঠাচ্ছেন। নির্বাচন ও রমজান মিলিয়ে মার্চ মাস পর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। গত ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। জুলাই থেকে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এসেছে ১৭ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
এদিকে ব্যাংকগুলোতে এখন ডলার উদ্বৃত্ত থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক গত সপ্তাহে ১৫টি ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার কিনেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৩৭৫ কোটি ডলার কিনেছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব অনুযায়ী, রিজার্ভ এখন ২৭ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার।
২০২১ সালে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় তা কমে ২৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে যায়। তখন দেশে ডলার সংকট চরম আকার ধারণ করেছিল এবং ব্যাংক খাতে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানে সংকট কাটায় ডলারের দাম কমে ১২২ টাকায় নেমেছে।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসাও কমেছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়ছে। নির্বাচন ও রমজান ঘিরে এই ইতিবাচক ধারা দেশের অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)