প্রথমবারের মতো মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন সাড়ে সাত লাখের বেশি বাংলাদেশি। প্রবাসে সোয়া কোটিরও বেশি বাংলাদেশি থাকলেও নিবন্ধনের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ শতাংশের কিছু বেশি। নির্বাচন কমিশন এ হারকে সফলতা হিসেবে দেখছে, তবে শেষ পর্যন্ত কতজন ভোট দেবেন এবং তা জয়-পরাজয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে- এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে শুধু প্রবাসী নয়, দেশের ভেতরে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং কারাগারে থাকা ভোটাররাও নিবন্ধন করেছেন। মোট নিবন্ধন হয়েছে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি, এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার।
আসনভিত্তিক সর্বোচ্চ নিবন্ধন হয়েছে ফেনী-৩ আসনে, প্রায় ১৬ হাজার। আরো ১৭টি আসনে ১০ হাজারের বেশি প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। তবে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম মনে করেন, এ সংখ্যা জয়-পরাজয়ের বড় নিয়ামক হওয়ার মতো নয়। তার মতে, নিবন্ধিত সবাই ভোট দেবেন এমন নিশ্চয়তা নেই, আর ভোটগুলো আসনভিত্তিকভাবে ভাগ হয়ে যাবে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার মনে করেন, প্রবাসী ভোটাররা কিছু আসনে প্রভাব ফেলতে পারেন। তিনি বলেন, অনেক সময় কয়েকটি ভোটের ব্যবধানেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়। সেক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কমিশনের দাবি, নিবন্ধনের হার বৈশ্বিক রেকর্ড ছাড়িয়েছে এবং ভোট দেওয়ার হার অন্তত ৩ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এ উদ্যোগকে সীমিত প্রভাবশালী বলে মনে করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, কোটি প্রবাসীর মধ্যে নিবন্ধন খুবই কম। প্রচারণার ঘাটতি ও আস্থার সংকট এর বড় কারণ। তিনি আরো বলেন, বর্তমান ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর পদ্ধতি যুগোপযোগী নয় এবং ভোটের গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, বিশ্বাসযোগ্য ওয়েব বা মোবাইল ইন্টারফেস তৈরি করে প্রযুক্তিগতভাবে যাচাইযোগ্য ভোটিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটের এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টাল ভোটিং চালুর ক্ষেত্রে শিক্ষা দেবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ভোটের হার এবং আসনভিত্তিক ফলাফলের ওপর।
logo-1-1740906910.png)