বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক ভ্রমণ সহজ করতে নতুনভাবে আরোপ করা ভিসা বন্ড বাতিলের জন্য দেশটির সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ওয়াশিংটন সময় ৮ জানুয়ারি বিকেলে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকরা ব্যবসায়িক (বি১) বা পর্যটন ভিসা (বি২) পেতে হলে ৫ থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার জামানত দিতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬ থেকে ১৮ লাখ টাকা।
বৈঠকে জেমিসন গ্রিয়ার বাংলাদেশের প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। তিনি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর মার্কিন শুল্ক কমানো বা বাতিলের প্রস্তাবও গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে জানান। উভয়পক্ষ দ্রুত পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কিছু খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকার চাইলে সইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি থাকবে না।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াবে। তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি তহবিল পাওয়ার বিষয়ে মার্কিন সহযোগিতা চান। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলামও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অবৈধভাবে অবস্থানরত পাঁচ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ২৫০ জনকে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে এবং বিশেষ ব্যবস্থায় পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠানো হবে।
সূত্র জানায়, আরো প্রায় সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন। তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে নেওয়া হবে। তবে তারা আপাতত স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যেতে পারছেন।
logo-1-1740906910.png)