Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

পাঁচ দেশকেন্দ্রিক অভিবাসন বাংলাদেশের বড় সমস্যা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৪

পাঁচ দেশকেন্দ্রিক অভিবাসন বাংলাদেশের বড় সমস্যা

বাংলাদেশ থেকে গত বছর মোট ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৭ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। তবে এর মধ্যে ৯০ শতাংশ কর্মী গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে সৌদি আরব, কাতার, সিঙ্গাপুর, কুয়েত ও মালদ্বীপে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৪১টি দেশে কর্মী পাঠানো হলেও অনেক দেশে সংখ্যা ছিল নামমাত্র।

রামরুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট অভিবাসীর ৬৭ শতাংশ গেছেন সৌদি আরবে, যা ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬৯ জন। এরপর কাতারে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ৬ শতাংশ, কুয়েতে ৪ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ৪ শতাংশ কর্মী গেছেন। গবেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে এক দেশকেন্দ্রিক শ্রমবাজারের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে।

২০২৫ সালে বিদেশে গেছেন ৬২ হাজার ৩১৭ জন নারী কর্মী, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেলেও ২০১৬-২০১৯ সালের তুলনায় অনেক কম। করোনার পর আবারো নারী অভিবাসন হ্রাস পাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শোভন কর্মক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা, সহিংসতা এবং রক্ষণশীল মানসিকতা নারী অভিবাসনকে নিরুৎসাহিত করছে।

রাশিয়া বাংলাদেশের একটি নতুন শ্রমবাজার হিসেবে উঠে এসেছে। গত বছর সেখানে গেছেন ৪ হাজার ৬৬৩ জন কর্মী, যা আগের বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, কিছু অসাধু চক্র রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যবহার করছে। একই সময়ে ইতালিতে সমুদ্রপথে পৌঁছেছেন ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।

প্রবাসী আয় গত বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সৌদি আরব থেকে এসেছে সবচেয়ে বেশি আয় ১৫.৫২ শতাংশ। তবে বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ০.০৮ শতাংশ, যা অত্যন্ত কম বলে মনে করছে রামরু।

রামরুর প্রতিবেদনে অভিবাসন খাতের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। তারা বলছে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কমিয়ে আনা জরুরি। পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক লাইসেন্স থাকলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা উচিত। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় জালিয়াতি বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, অভিবাসন খাতে জাতীয় বাজেটের অন্তত ১ শতাংশ অথবা বার্ষিক প্রবাসী আয়ের ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও বাজেটে বরাদ্দ অত্যন্ত কম। এই বরাদ্দ বাড়ানো হলে অভিবাসীদের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন শ্রমবাজার তৈরির উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, রামরুর মতে অভিবাসন খাতকে টেকসই করতে হলে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ভাঙা, লাইসেন্স ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা এবং বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ।

Logo