ট্রাভেল এজেন্সির নতুন আইন: অনলাইনে এক কোটি টাকা গ্যারান্টি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৭
দেশে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায় সুশাসন নিশ্চিত, টিকিটের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং অভিবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে সরকার নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে। ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ সংশোধন করে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অধ্যাদেশ জারি করেন।
সংশোধিত আইনে অনলাইন ও অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য আলাদা ব্যাংক গ্যারান্টি নির্ধারণ করা হয়েছে। অফলাইন এজেন্সির ক্ষেত্রে গ্যারান্টি হবে ১০ লাখ টাকা, আর অনলাইন এজেন্সির জন্য তা এক কোটি টাকা।
অধ্যাদেশে ‘ফলস বুকিং’ বা বানোয়াট আসন সংরক্ষণের মাধ্যমে টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরিকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো এজেন্সি অন্য এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে না এবং টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত আর্থিক মাধ্যম ছাড়া লেনদেন করা যাবে না।
গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় বলা হয়েছে, কোনো এজেন্সি মিথ্যা প্রলোভন, প্রতারণা বা চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ আদায় করতে পারবে না। অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় এবং টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে প্রতারণা বা দুর্নীতি রোধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতাও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর ট্রাভেল এজেন্সির সনদ নবায়ন করতে হবে। প্রতি বছর আর্থিক বিবরণীসহ সার্বিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন সরকারকে দাখিল করা বাধ্যতামূলক। কোনো ঋণ খেলাপি ব্যক্তি ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
logo-1-1740906910.png)