অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে চালু হচ্ছে না থার্ড টার্মিনাল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:১৭
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে চালু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আহমেদ। ৫ জানুয়ারি সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এক প্রশ্নের জবাবে বিমান উপদেষ্টা বলেন, থার্ড টার্মিনাল চালুর জন্য আমাদের প্রাণান্ত চেষ্টা ছিল। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে জাপানিজ ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে মিটিং করেছি। আমরা দরকষাকষি করেছি। আমরা চেষ্টা করেছি কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টা সম্ভবত সফল হয়নি।
তিনি বলেন, এটার যে পদ্ধতিগত প্রয়োজনগুলো রয়েছে পরবর্তী কর্মকাণ্ডের জন্য, সেই পদ্ধতিগত প্রয়োজনগুলোকে আমরা সচল করার জন্য বর্তমানে নিয়োজিত আছি। পরবর্তী সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের প্রাথমিক উদ্বোধন করা হয়। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ পূর্ণাঙ্গরূপে টার্মিনালটি চালুর প্রতিশ্রুতি দেয় তৎকালীন সরকার।
তবে ঘন ঘন প্রকল্পের নেতৃত্বে পরিবর্তন, বিদেশ থেকে কিছু উপকরণ আনতে বিলম্ব এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে সময়সীমা পিছিয়ে যায়।
মোট প্রকল্প খরচের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। বাকি অর্থ এসেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ঋণ থেকে।
২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর ফ্লোর স্পেস ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। এতে রয়েছে ১১৫টি চেকইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপার্চার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন এবং তিনটি ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক।
টার্মিনালটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে ঢাকার বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে বছরে ১০ লাখ টনে পৌঁছাবে। যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা তিনগুণ বেড়ে বছরে ২ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাবে।
সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি করা হয়। উপদেষ্টা জানান, এই দুটি অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে বিমানের টিকিট বিক্রিকে কেন্দ্র করে যে প্রতারণা ও হয়রানি হয়ে থাকে তা বন্ধ হবে। অসাধু এজেন্সির সিন্ডিকেশন ভেঙে যাত্রীদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরো বলেন, তীব্র কুয়াশার কারণে ফ্লাইট পাশের দেশে ডাইভারশন এড়াতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ক্যাটাগরি থ্রিতে উন্নীত করা হবে। এতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় বিকল্প সুবিধা তৈরি হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান জানান, নতুন অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে বিমান পরিবহন ও ট্রাভেল ব্যবসায় শৃঙ্খলা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে। বিমানের টিকিটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে অভিবাসী কর্মী ও সাধারণ যাত্রীদের অধিকার সংরক্ষণ হবে।
logo-1-1740906910.png)