মাইগ্রেশন কনসার্ন বিশেষ
সৌদি থেকে ২২ লাখ কর্মী ফেরার শঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১১
সৌদির শ্রমবাজারে আসছে বড় এক ঝড়। দেশটির শ্রমবাজারে এখন যে ৩৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি আছেন, তার মধ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২২ লাখ প্রবাসীকে ফিরতে হতে পারে দেশে।
সৌদি আরবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ এক সাক্ষাৎকারে মাইগ্রেশন কনসার্নকে জানিয়েছেন, সৌদি আরব ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির সব কর্মক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রবাসী কর্মী সৌদিকরণের পরিকল্পনা করেছে। তার মানে ৭০ শতাংশ প্রবাসী কর্মীর কাজের জায়গা নেবে সৌদি নাগরিকরাই। আর তা করতে সক্ষম হলে বাংলাদেশের কমপক্ষে ২২ লাখ কর্মীকে ফিরতে হবে দেশে।
গোলাম মসিহ জানিয়েছে, হুট করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়নি সৌদি আরব। ২০১৭ সালে এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের শঙ্কা, দূরের বিপদের কথা চিন্তা করে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না বাংলাদেশকে।
সৌদিতে রাষ্ট্রদূত থাকার সময়ে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মনে করেন, সৌদি সরকার যা বলে তাই করে। ফলে এখানে সন্দেহের কোনো সুযোগ নেই। তাই এখন থেকে বিদেশ যেতে চাওয়া কর্মীদের দিতে হবে যুগোপযোগী মানসম্মত প্রশিক্ষণ। দেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়ন করা খুব জরুরি।
সৌদির শ্রমবাজারে থাকা আমাদের দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা পাঠান সর্বোচ্চ সংখ্যক রেমিট্যান্স। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে সৌদি থেকে এসেছে ৩.২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। টাকার অঙ্কে যা ৩৯ হাজার ১২০ কোটি টাকা।
গোলাম মসিহ জানালেন, সোনালি এই সৌদি শ্রমবাজার বর্তমানে বিভিন্ন সংকটের ঘেরাটোপের কবলে পড়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ফ্রি ভিসা, তিন মাসের ইকামায় সৌদি গমন, কর্মী-শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি, ইকামা ও বেকারত্বের সমস্যা, বকেয়া বেতন আর কাজের অমিল।
এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে বাংলাদেশ সরকার, মন্ত্রণালয় আর দূতাবাসকে। বাড়াতে হবে মনিটরিং। দূরের বিপদের কথা মাথায় নিয়ে এখন থেকে কর্মপরিকল্পনা করা না হলে, অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখে পড়বে বাংলাদেশ।
logo-1-1740906910.png)