দেড় লাখ টাকায় এনআইডি/পাসপোর্ট পাচ্ছে রোহিঙ্গারা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৭
দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দেওয়ার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। দৈনিক কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মবহির্ভূতভাবে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছে। এর মাধ্যমে তারা পাচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও নাগরিকত্ব, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, জান্নাত বেগম নামে এক নারীর নামে এনআইডি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু যাচাইয়ে উঠে আসে অসংগতি- উল্লেখিত পিতা-মাতা প্রকৃতপক্ষে অন্য পরিবারের সদস্য, যাদের কোনো কন্যা সন্তান জান্নাত বেগম নামে নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন, এটি সরাসরি জালিয়াতি।
জন্মনিবন্ধন যাচাইয়ে দেখা যায়, জান্নাত বেগমের নামে সংরক্ষিত কপি আসলে অন্য একটি নিবন্ধন স্ক্যান করে ডিজিটালভাবে এডিট করা হয়েছে। ভোটার ডাটা এন্ট্রির প্রুফ কপিতে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরও ভিন্ন ব্যক্তির নামে পাওয়া গেছে, যিনি জান্নাত বেগমকে চিনেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারীরা জানিয়েছেন, জান্নাত বেগম একজন রোহিঙ্গা। দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ভোটার করা হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সিহাব উদ্দিনের স্বাক্ষরও পাওয়া গেছে ভোটার ফরমে। অভিযোগ উঠেছে, জেলার আরও একজন নির্বাচন অফিসার এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত। প্রায় ৫০–৬০টি এনআইডি এভাবে তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার সিহাব উদ্দিন দাবি করেছেন, ভোটার হালনাগাদের সময় জান্নাত বেগম ভোটার হয়েছেন এবং কোনো লেনদেন হয়নি। জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন জানিয়েছেন, তদন্তে প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানও একই আশ্বাস দিয়েছেন।
এর আগেও নেত্রকোনায় রোহিঙ্গাদের ভুয়া কাগজপত্র তৈরির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ ডিসেম্বর মোহনগঞ্জে ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে ১৩ রোহিঙ্গার জন্মনিবন্ধন তৈরি করায় এক কম্পিউটার দোকানদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। কলমাকান্দায়ও এক রোহিঙ্গা অর্থের বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছিলেন।
logo-1-1740906910.png)