Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রিজার্ভের সমপরিমাণ প্রবাসী আয় এক বছরে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০১

রিজার্ভের সমপরিমাণ প্রবাসী আয় এক বছরে

সদ্য বিদায়ী ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২২ কোটি মার্কিন ডলার। দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হয়েছিল গত বছরের মার্চে, তখন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশে এসেছিল ৩২৯ কোটি ডলার। ডিসেম্বরের আয় সেই রেকর্ডের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের পুরো বছরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রবাসী আয় প্রায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সমান। নভেম্বরে প্রবাসী আয় ছিল ২৮৯ কোটি ডলার, ডিসেম্বরের আয় তার চেয়ে ৩৩ কোটি ডলার বেশি।  

বছরজুড়ে প্রবাসী আয়ের গতি ভালো থাকায় ব্যাংক খাতে ডলারের সংকট দেখা দেয়নি। ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত ডলার কিনেছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে বছর শেষে দাঁড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।  

২০২১ সালে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর তা কমতে থাকে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে যায় ২৬ বিলিয়ন ডলারে, তখন ডলার সংকট চরম আকার ধারণ করে এবং ব্যাংক খাতে ডলারের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১২৮ টাকা। বর্তমানে সংকট কেটে যাওয়ায় দাম কমে ১২২ টাকায় নেমেছে।  

২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। মার্চে রেকর্ড আয় হওয়ার পর ডিসেম্বরেও আয় ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা কমেছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় বৈধ পথে আয় বেড়েছে।  

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৩১৩ কোটি ডলার কিনেছে। এর মধ্যে শুধু ডিসেম্বরেই কেনা হয়েছে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। সর্বশেষ মঙ্গলবার সাতটি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার কেনা হয়, প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে। ফলে প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ দুটিই এখন দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।

Logo