ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদে ২ ডিসেম্বর সারাদেশে মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। সংগঠনটির দাবি, সরকারের প্রতিশ্রুতি বারবার ভঙ্গ হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে এই কর্মসূচি নিতে যাচ্ছে।
এমবিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। এমনকি বিটিআরসি চেয়ারম্যানও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এনইআইআর কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে তাদের জীবিকা ও বাজারকে একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মোবাইল ব্যবসা খাতের ওপর হাজার হাজার উদ্যোক্তা ও লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। সেখানে হঠাৎ করে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দোকান বন্ধ রাখার কর্মসূচি হবে একটি “শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় প্রতিবাদ”। তারা বলছেন, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো মোবাইল বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেটগুলোর প্রভাবের অবসান ঘটানো। কয়েকটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য পুরো বাজারকে জিম্মি করার কোনো অপচেষ্টা তারা আর মেনে নেবেন না।
এর আগে ১ জানুয়ারি দুপুরে এনইআইআর কার্যক্রমের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন ঘেরাও করেন। এ সময় ভবনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে সন্ধ্যার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেয়। বিক্ষোভ চলাকালে সেনাবাহিনী কয়েকজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
এনইআইআর ব্যবস্থা মূলত মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাই ও অবৈধ হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণের জন্য চালু করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
logo-1-1740906910.png)