Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিদেশ যাওয়ার আগে যা জানা জরুরি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:১১

বিদেশ যাওয়ার আগে যা জানা জরুরি

বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্নে প্রতি বছর লাখো বাংলাদেশি দেশ ছাড়ছেন। এই বড় জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনে উৎসাহিত করতে বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য একটি বিস্তারিত সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন ও লিফলেট বিতরণ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এতে বিদেশে যাওয়ার আগে কী কী বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি, তা ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে।

লিফলেটে বলা হয়েছে, বিদেশে যাওয়ার আগে অবশ্যই বৈধ পাসপোর্ট, নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের ভিসা এবং প্রয়োজনে মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। কোন দেশে, কোন কাজে যাওয়া হচ্ছে, সে অনুযায়ী নিজের দক্ষতা যথাযথ কিনা, তা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চাকরির ডিমান্ড লেটার, চুক্তিপত্র বা কন্ট্রাক্ট পেপার গন্তব্য দেশের সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা হাইকমিশন কর্তৃক সত্যায়িত কিনা, সেটিও যাচাই করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত চাকরির বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও অন্যান্য শর্ত পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নির্দিষ্ট কিছু দেশে যেতে হলে আলাদা দক্ষতা যাচাই ও ভাষাজ্ঞানের শর্ত পূরণ করার কথাও জানানো হয়েছে। সৌদি আরবে যেতে হলে তাকামোল কর্তৃপক্ষের অধীনে স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে নির্ধারিত টেস্ট সম্পন্ন করতে হবে। জাপানে কাজ করতে আগ্রহীদের ক্ষেত্রে জাপানি ভাষার নির্দিষ্ট লেভেল অর্জন বাধ্যতামূলক। আর মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্কিল টেস্ট পাস করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

লিফলেটে আরো বলা হয়েছে, বিএমইটির স্মার্ট কার্ড বা ছাড়পত্র, বিমানের টিকিট এবং গন্তব্য দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস ও শ্রম কল্যাণ উইংয়ের ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর সঙ্গে রাখতে হবে। সব গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের এক সেট বাড়িতে রেখে, অন্তত তিন সেট নিজের কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করার কথা বলা হয়েছে এবং প্রতিটি লেনদেনের রসিদ সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

গন্তব্য দেশের আইন, সামাজিক রীতি, আচরণ, আবহাওয়া ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগেই ধারণা নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে মন্ত্রণালয়। কোনো অবস্থাতেই মাদক বা নিষিদ্ধ কোনো দ্রব্য বহন, গ্রহণ বা সংরক্ষণ না করার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। অপরিচিত কারো দেওয়া প্যাকেট বা লাগেজ বহন না করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানো থেকে বিরত থেকে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

লিফলেটে প্রবাসী কর্মীদের জন্য চালু থাকা কর্মী বীমা সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত প্রিমিয়ামের বিনিময়ে মৃত্যুঝুঁকি, স্থায়ী বা আংশিক অক্ষমতা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সবশেষে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশে যাওয়ার আগে বিএমইটির অধীনে প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন, ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা চক্র অবৈধভাবে টাকা দাবি করলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। সচেতন ও নিয়ম মেনে বিদেশে গেলে প্রবাসী জীবন যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি অভিবাসনের সুফলও টেকসই হবে- এমনটাই তুলে ধরা হয়েছে এই সচেতনতামূলক বার্তায়।

Logo