ঢাকায় আয়োজিত হলো বাংলাদেশের প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় আয়োজন এনআরবি গ্লোবাল কনভেনশন। রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে এ আয়োজন। প্রায় এক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি এই সম্মেলনে অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং আইটি পেশাজীবীরা, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন।
সকাল ১১টায় কনভেনশনের উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। সন্ধ্যায় সমাপনী সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন, যিনি বর্তমানে শিপিং মন্ত্রণালয় ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরও উপস্থিত ছিলেন এবং প্রবাসী বাঙালিদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান নিয়ে মূল্যবান আলোচনা করেন।
প্রায় ২৫টি দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। উল্লেখযোগ্যভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, দুবাই, সিঙ্গাপুর, জাপান, কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি চেম্বার অব কমার্সের বড় প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও অংশ নেয়, যা প্রবাসী উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
সারাদিন ধরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা সর্বশেষ অগ্রগতি ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। অনুষ্ঠানে এনআরবি পুরস্কার প্রদান করা হয় সেসব প্রবাসী বাংলাদেশিদের, যারা বিভিন্ন খাতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। এতে প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে গর্ব ও ঐক্যবোধ আরো সুদৃঢ় হয়েছে।
এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনামুল হক এনাম বলেন, এই কনভেনশনের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করা। বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা এবং দক্ষ প্রবাসীদের স্থানীয় ব্যবসায় অবদান রাখতে সহায়তা করাই এই প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্য।
এনামুল হক এনাম অংশগ্রহণকারী, স্পন্সর ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের একত্রিত করতে পেরে আনন্দিত। এই কনভেনশন ব্যক্তি নয়, বরং জাতি ও সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে।”
এনআরবি ফ্যামিলি সাপোর্টের চেয়ারম্যান জলিল খান বলেন, “এই কনভেনশন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সহায়তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। একসাথে আমরা নতুন অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা তৈরি করছি, যা বাংলাদেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নেবে।”
logo-1-1740906910.png)