Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

অনিশ্চয়তার রাজনীতিতে দেশ: প্রবাসীদের উদ্বেগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৩

অনিশ্চয়তার রাজনীতিতে দেশ: প্রবাসীদের উদ্বেগ

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশের ভেতরে যেমন উত্তেজনা, তেমনি প্রবাসীদের মধ্যেও রয়েছে গভীর উদ্বেগ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম, সংস্কার প্রস্তাব, নতুন দল গঠন, বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য জোট, তারেক রহমানের দেশে আগমন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য এবং সাম্প্রতিক হাদী হত্যাকাণ্ড; সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন অস্থিরতায় ভরপুর।  

ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্নীতি দমন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফেসবুক গ্রুপ “Bangladeshi Diaspora Forum” এবং হোয়াটসঅ্যাপ কমিউনিটি আলোচনায় দেখা গেছে, অনেকেই মনে করছেন “সংস্কার প্রস্তাব কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।”

নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি তরুণদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। তবে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রবাসী সংগঠন “UK Bangladeshi Youth Network”-এর আলোচনায় তরুণরা প্রশ্ন তুলেছেন, “এ দল কি সত্যিই বিকল্প শক্তি হতে পারবে, নাকি পুরনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি হবে?” 

বিএনপি আবারো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তারেক রহমানের দেশে আগমনকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হলেও নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। সৌদি আরবভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপ “Bangladeshi Expatriates in KSA”-এর আলোচনায় বলা হয়েছে, “জামায়াতের সঙ্গে জোট মানে পুরনো বিতর্ককে আবার সামনে আনা।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে দলের ভেতরে উদ্বেগ রয়েছে। চিকিৎসা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সীমিত অংশগ্রহণ বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।  

সাম্প্রতিক হাদী হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক সহিংসতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে জনসমাগমস্থলে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রবাসীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।  মালয়েশিয়াভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপ “Bangladeshi Workers in Malaysia”-এ আলোচনায় উঠে এসেছে, “দেশে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে, আমরা পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছি।”

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন আদৌ হবে কি না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হলে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবাসী নিউজ পোর্টাল “Probash Bangla News”-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নেই, কিন্তু নির্বাচন হলে তা কতটা সুষ্ঠু হবে তা নিয়েই প্রশ্ন।”

তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তারা মনে করছেন, পুরনো দলগুলো তাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। নতুন দলগুলোও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে তরুণদের রাজনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রবাসী ফোরাম “Bangladeshi Students Abroad”-এর আলোচনায় তরুণরা লিখেছেন, “আমরা রাজনীতিতে অংশ নিতে চাই, কিন্তু কোনো দলই আমাদের আস্থা অর্জন করতে পারছে না।”

প্রবাসীরা শুধু রাজনীতি নয়, অর্থনীতি নিয়েও চিন্তিত। ফেসবুক গ্রুপ “Bangladeshi Diaspora in Middle East”-এ অনেকেই লিখেছেন, “আমরা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখি, কিন্তু ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার, বিএনপি-জামায়াতের জোট, তরুণদের হতাশা, প্রবাসীদের উদ্বেগ; সব মিলিয়ে দেশ একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। নির্বাচন হবে কি না, কারা ক্ষমতায় আসবে, প্রবাসীদের ভাগ্য বদলাবে কি না-:এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: দেশ-বিদেশের বাংলাদেশিরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

Logo