Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ফিরে আসা অভিবাসী নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব কার?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৪৪

ফিরে আসা অভিবাসী নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব কার?

নারী পোশাক শ্রমিকদের মতোই অভিবাসী নারী শ্রমিকরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে এ দেশের অর্থনীতিতে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। কিন্তু আরএমজি খাতের মতো অভিবাসী শ্রমিক, বিশেষ করে নারী, যারা ফিরে আসেন, তাদের জন্যে সমাজ ও রাষ্ট্রের যথাযথ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এ বিষয়ে আয়োজিত এক জাতীয় সংলাপে অংশ নেওয়া বক্তারা। প্রত্যাবর্তনকারী নারী অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য নতুন কাজের ক্ষেত্র খুঁজে বের করা, তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রশিক্ষণ কিংবা তাদের সামাজিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের শেষ পর্বে একটি জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৮ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে। ইউএন উইমেন ও আইএলওর সহায়তায় এই জাতীয় সংলাপ আয়োজন করেছে ‘বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্র’ বা বিএনএসকে।

সংলাপের প্রধান অতিথি নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ বলেন, প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসী নারী শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করতে হবে সমাজের সবাইকে। এটি কেবল সরকারের একক ভূমিকা নয়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টারও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাইফুল ইসলাম জানান, এমন কাজে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি খাতের সবাই এগিয়ে এলে ফিরে আসা নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসন কাজটি সফল করা সহজ হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, তাদের সংগঠন এমন কাজের সাথে যুক্ত হতে আগ্রহী। নারীদের ক্ষেত্রে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে সমাজ এগোতে পারবে না বলেও মতামতে জানান তিনি। অভিবাসী নারী শ্রমিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তারা যথাযথ মর্যাদা এবং সুরক্ষা পান কিনা, সে প্রশ্ন তোলেন বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী। প্রত্যাগত নারীদের পুনর্বাসনে কৃষিতে অন্তর্ভুক্তির কথা বলেন কৃষি তথ্য বিশ্লেষক রেজাউল করিম সিদ্দিক। সংলাপে আরো বক্তব্য রাখেন ইউমেন এন্টারপ্রেনার নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্টের সদস্য ড. কাশফিয়া আহমেদ, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বারের সদস্য সাবা নওরিন, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরসহ অনেকে। সরকারের রেইজ প্রকল্পের প্রতিনিধি জাহিদ আনোয়ার প্রত্যাগত অভিবাসীদের জন্য সরকারের কার্যকর প্রকল্পের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

অভিবাসী নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা ততক্ষণ নিশ্চিত হবে না, যতক্ষণ তারা মানুষ হিসেবে মূল্যায়িত হবেন না- এমন বক্তব্য তুলে ধরেন আইএলওর প্রোগ্রাম ম্যানেজার রেহনুমা সালাম খান। বিএনএসকের নির্বাহী পরিচালক ও নারী সংস্কার কমিশনের সদস্য সুমাইয়া ইসলাম জানান, প্রত্যাবর্তনকারী নারী অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, মানসিক শক্তি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি পরিকল্পনা তৈরির কাজে সরকারকে সহযোগিতা করছেন তারা। আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ইউএন ইউমেনের প্রতিনিধি হুমায়রা বিনতে ফারুক, উদ্যোক্তা হাসনাত জাহান, সাবিনা ইয়াসমিন, বিএমইটি, বোয়েসেলস, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি।

Logo