ভুয়া চাকরির টোপে দিল্লিতে বিক্রি হলো বাংলাদেশি এক নারী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১:১২
ভুয়া চাকরির প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে গিয়ে এক তরুণীকে বিক্রি করার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উদ্ধার হওয়া তরুণীর নাম রুমি আখতার, তিনি কুমিল্লার বাসিন্দা। রুমি জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস আগে ঢাকাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় একটি পাচারচক্র তাকেসহ আরো ৯ জন তরুণীকে পাহাড়ি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে নিয়ে আসে। কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও ভারতে ঢোকার পর তাদের আলাদা আলাদা জায়গায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। সংবাদটি প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল।
রুমি অভিযোগ করেছেন, ভারতে ঢোকার পর তাদের প্রত্যেকের জন্য ভুয়া পরিচয়ে ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়। তার আধার কার্ডে নাম লেখা হয়েছিল ‘ঝুমার রাই’। পরে তাদের দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়।
প্রায় আট দিন আগে রুমি পাচারকারীদের হাত থেকে পালাতে সক্ষম হন। প্রথমে তিনি গুয়াহাটি পৌঁছান এবং সাহায্যের আশায় কোচবিহার থানায় যান। কিন্তু অভিযোগ, এক থানা থেকে অন্য থানায় ঘোরানো হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত আসামের ধুবড়ি জেলার গোরিপুর থানায় গেলে সেখান থেকেও প্রথমে সাহায্য পাননি। রাতে স্থানীয় কিছু মানুষ তাকে আশ্রয় দেন। পরদিন সকালে আসাম পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। বর্তমানে তিনি সুরক্ষিত রয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমকে রুমি বলেন, “আমাদের কাজের নাম করে ভারতে আনা হয়েছিল। পরে দিল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়। আমি কোনো মতে পালিয়ে এসেছি। কিন্তু আমার সঙ্গে যারা গিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই এখনো আটকে আছেন। আমি শুধু নিজের দেশে ফিরতে চাই”।
ধুবড়ির পুলিশ সুপার দেবাশিস বরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে রুমি বাংলাদেশি নাগরিক। তার নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত ভারত ও বাংলাদেশের দালালদের খোঁজে তদন্ত চলছে।
এই ঘটনায় ফের একবার সীমান্ত পেরিয়ে মানব পাচার ও ভুয়া নথি তৈরি করে চক্র চালানোর ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। প্রশাসন মনে করছে, সীমান্তে নজরদারি ও পাচারচক্র দমনে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
logo-1-1740906910.png)