সরকারের কাছে রেমিট্যান্স প্রণোদনার ৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩:৫৫
প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের বিপরীতে সরকারের দেওয়া নগদ প্রণোদনার অর্থ তিন মাসের বেশি সময় ধরে না পাওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় চার হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এতে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যাওয়া এবং তারল্য সংকট আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
বর্তমানে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ব্যাংকগুলো সরকারের পক্ষ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকার সেই অর্থ ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করে। তবে গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে এই অর্থ ছাড় না হওয়ায় বকেয়ার অঙ্ক দ্রুত বাড়ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রণোদনার বকেয়া ছিল সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি। ডিসেম্বর পর্যন্ত তা আরো প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বেড়ে চার হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
এর মধ্যেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। শুধু ডিসেম্বরের প্রথম ১৭ দিনেই প্রবাসীরা দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। ফলে ব্যাংকগুলোর ওপর প্রণোদনার চাপও বাড়ছে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, নভেম্বর শেষে সিটি ব্যাংকের প্রায় ১৮৫ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংকের ৪৪৫ কোটি, ট্রাস্ট ব্যাংকের ৪০০ কোটি এবং পূবালী ব্যাংকের ১৬০ কোটি টাকার প্রণোদনার অর্থ বকেয়া ছিল।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগে এক মাসের মধ্যেই এই অর্থ সমন্বয় হতো। এখন তিন মাস পার হলেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আমানতনির্ভর তহবিল ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, তিন মাসের বেশি সময় ধরে প্রণোদনার অর্থ বকেয়া থাকায় তহবিল ব্যবস্থাপনা জটিল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সরকার থেকে অর্থ পেলেই ব্যাংকগুলোকে তা দেওয়া হবে।
ব্যাংকাররা বলছেন, সময়মতো অর্থ না পাওয়ায় সরাসরি মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রণোদনায় আটকে থাকা অর্থ অন্য লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা যাচ্ছে না। ফলে ট্রেজারি বিলসহ উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে।
একজন ট্রেজারি প্রধান জানান, প্রতি এক লাখ ডলার রেমিট্যান্সের বিপরীতে প্রণোদনাসহ তিন লাখ টাকার বেশি ব্যাংককে নিজস্ব তহবিল থেকে দিতে হচ্ছে। অথচ এই অর্থ সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধ করার কথা।
ব্যাংকারদের মতে, বড় ব্যাংকগুলো এ চাপ কিছুটা সামলাতে পারলেও মাঝারি ও দুর্বল ব্যাংকগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। তারল্য কম থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রণোদনার অর্থ মাসিক ভিত্তিতে ছাড় করা হয় না। নির্দিষ্ট সময় অন্তর অর্থ দেওয়া হয়। দুই-তিন মাসের বিলম্ব স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ বলেও জানান তিনি। তবে ব্যাংকাররা সতর্ক করছেন, বকেয়া দীর্ঘ হলে বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর মুনাফা ও তারল্যের ওপর চাপ আরো বাড়তে পারে।
logo-1-1740906910.png)