Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে তুরস্কের এত আগ্রহ কেন?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯:৫১

দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে তুরস্কের এত আগ্রহ কেন?

তুরস্ক ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার অংশ না হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলের প্রতি দেশটির আগ্রহ স্পষ্টভাবে বেড়েছে। কূটনীতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অর্থনীতি এবং আদর্শিক অবস্থানের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে আঙ্কারা। বিশ্লেষকদের মতে, এই আগ্রহের পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক সংযোগ, ভূরাজনৈতিক হিসাব এবং মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কৌশল। দ্য ডিপ্লোমেট পত্রিকা এ নিয়ে প্রকাশ করেছে এক বিশেষ প্রতিবেদন।

ঐতিহাসিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক নতুন নয়। ব্রিটিশ শাসনামলে খিলাফত আন্দোলনের সময় ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের সমর্থন তুরস্কের স্মৃতিতে আজও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এই ঐতিহাসিক আবেগ বর্তমান কূটনীতিতেও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন গবেষকরা।

ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাও তুরস্কের আগ্রহ বাড়ানোর বড় কারণ। দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চল। এখানে চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে তুরস্ক নিজেকে একটি স্বাধীন ও প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তুরস্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজের কণ্ঠ আরো জোরালো করতে চায়।

এই কৌশলের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রশিক্ষণ ও কূটনৈতিক সমন্বয়ে দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরো গভীর হয়েছে। তুরস্ক পাকিস্তানকে ড্রোন, নৌযান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। পাশাপাশি কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থানের প্রতি তুরস্ক প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে, যা ভারতের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ককে কিছুটা জটিল করেছে।

ভারতের ক্ষেত্রে তুরস্কের অবস্থান তুলনামূলক সংযত হলেও দূরত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিশ্বাসের ঘাটতি স্পষ্ট। ভারতের অভ্যন্তরীণ মুসলিম ইস্যু ও কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের বক্তব্য দিল্লির অস্বস্তির কারণ হয়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় তুরস্কের সক্রিয়তা অনেকাংশেই পাকিস্তানকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর সঙ্গেও তুরস্ক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অবকাঠামো, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার মাধ্যমে এই দেশগুলোতে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে চায় আঙ্কারা। মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন প্রকল্পও তুরস্কের ‘সফট পাওয়ার’ কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় তুরস্কের আগ্রহ মূলত তিনটি বিষয়ে কেন্দ্রীভূত- মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বে ভূমিকা জোরদার করা, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কৌশলগত প্রভাব বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক বাজার সম্প্রসারণ। ভবিষ্যতে এই আগ্রহ আরো গভীর হলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে তুরস্ক একটি দৃশ্যমান খেলোয়াড়ে পরিণত হতে পারে।

Logo