সরকারের উদ্যোগে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন প্রবাসফেরত কর্মীরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:০৩
নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা অনেক প্রবাসী কর্মীর জীবনে নতুন আশা জাগিয়েছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ‘রেইজ’ প্রকল্প। নিবন্ধন, কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ ও এককালীন প্রণোদনার মাধ্যমে নতুন করে কর্মসংস্থানে ফিরছেন তারা। এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পে নিবন্ধন করেছেন সোয়া দুই লাখের বেশি প্রবাসফেরত কর্মী। প্রণোদনা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে ৩০৪ কোটি টাকারও বেশি।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দন মল্লিকের গল্প তেমনই এক উদাহরণ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৫ বছর কাজ করার পর ২০২৩ সালে কোম্পানির ছাঁটাইয়ে দেশে ফিরতে হয় তাকে। প্রবাসে জমানো সঞ্চয় অল্প সময়েই শেষ হয়ে যায়। অনিশ্চিত সেই সময়ে রেইজ প্রকল্পে নিবন্ধন করে ওরিয়েন্টেশন ও কাউন্সেলিং নেন তিনি। ফার্মেসি চালুর জন্য পান সাড়ে ১৩ হাজার টাকার প্রণোদনা।
চন্দন মল্লিক বলেন, ‘আমার ফেরত আসা, প্লেন টিকিট, পাসপোর্ট; সব কাগজ তারা দেখেছে। কাগজপত্র যাচাইয়ের পর অফিসে ডেকে নিয়ে সহায়তা করেছে।’
চন্দনের মতোই সৌদি আরব ফেরত খুলনার শাহানারা আক্তার ও কুষ্টিয়ার বর্ণাও নতুনভাবে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন। দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে গিয়ে দুই মাস কাজ করেও বেতন না পাওয়া, মারধর ও খাবার বন্ধ করে দেওয়ার মতো নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরেন তারা। রেইজ প্রকল্পের পরামর্শ ও পরিকল্পনায় একজন গড়েছেন পার্লার, আরেকজন শুরু করেছেন মুদি দোকান।
শাহানারা আক্তার বলেন, ‘তারা ব্যবসার একটা পরিকল্পনা দেন। সেই পরামর্শে আমি সিদ্ধান্ত নিই, বাড়ির সামনে দোকান দেব।’
প্রবাসফেরত অভিবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালে রেইজ প্রকল্প চালু করে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। বর্তমানে দেশজুড়ে ৩৫টি প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৫ সালের পর দেশে ফেরা কর্মীরা এ প্রকল্পে নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছেন। নিবন্ধন ও কাউন্সেলিং শেষে প্রত্যেককে দেওয়া হচ্ছে এককালীন প্রণোদনা।
ঢাকা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. শাহ্জালাল বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবার জন্য পাঠানো হয়।’
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ জন নিবন্ধন করেছেন। সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী চট্টগ্রাম, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের ফলোআপে রয়েছেন দুই লাখের বেশি কর্মী। বর্তমানে প্রকল্পের আওতায় মনো-সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা কার্যক্রম চলমান।
চলতি অর্থবছরে আরো ২০ হাজার কর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা তৈরি এবং পুনরায় বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)