বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রাশিয়া। ঢাকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব ঢাকা-দিল্লির মধ্যে উত্তেজনা কমানো জরুরি।
২৩ ডিসেম্বর ঢাকায় রুশ দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত জানান, রাশিয়া অন্য দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বা সংঘাতে সাধারণত মন্তব্য করে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতি তারা পর্যবেক্ষণ করছে। তার ভাষায়, এটি একটি ভূ-রাজনৈতিক বিষয় এবং সমাধান না এলে পুরো অঞ্চলে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
রাষ্ট্রদূত খোজিন বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য রাশিয়া গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের পথে এগোনোর কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেশী বেছে নিতে পারি না। ইউক্রেনের সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি, দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা কতটা ক্ষতিকর হতে পারে।’ একই সঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের ভূমিকা এবং সে সময় রাশিয়ার সমর্থনের কথাও স্মরণ করেন। তার মতে, ইতিহাস বলে দেয় যে কোনো ধরনের উত্তেজনা যত দ্রুত সম্ভব কমানোই সবার জন্য ভালো।
ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে রাশিয়া কোনো মধ্যস্থতা করবে কিনা- এ প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন, রাশিয়া সাধারণত অন্য দেশের দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনায় জড়ায় না। কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার অনুরোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ ধরনের বিরোধ শিমলা চুক্তি ও লাহোর ঘোষণার মতো দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত।
বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাকে রাশিয়া ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে নির্বাচন এখনো হয়নি, তাই আগেভাগে কোনো মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, রাশিয়ার আগ্রহ হচ্ছে বাংলাদেশে একটি ইতিবাচক, সহিংসতামুক্ত, চরমপন্থামুক্ত পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া। তার মতে, এটি বাংলাদেশের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, রাশিয়ার জন্যও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত হলেও রাশিয়া নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলে রাশিয়া ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প প্রসঙ্গে আলেকজান্ডার খোজিন বলেন, অর্থ পরিশোধে বিলম্ব শুরু হয়েছে দেড় বছর আগে। সংশোধিত চুক্তি অনুযায়ী প্রথম কিস্তি ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরে পরিশোধ হবে, যা রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা ওঠে। এ বিষয়ে রুশ দূতাবাসের প্রথম সচিব অ্যানেস্তেশিয়া নিমোভা বলেন, রাখাইনের পরিস্থিতি ও শরণার্থী সংকট এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। রাশিয়া অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিপক্ষে, তবে সম্মানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
logo-1-1740906910.png)