Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

প্রবাস অর্থনীতির খবর

১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমতে পারে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:২২

১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমতে পারে

নতুন বছর শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারো কমতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা গড়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ উপদেষ্টার অনুমোদন মিললে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করবে।

বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, স্বল্প অঙ্কের বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগে কম মুনাফা নির্ধারণ করা হতে পারে। বিশেষ করে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে কিছুটা বেশি সুবিধা থাকলেও এর বেশি অঙ্কে মুনাফা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সঞ্চয়পত্র দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি নিরাপদ ও জনপ্রিয় বিনিয়োগ মাধ্যম। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও অন্যান্য দেশে কর্মরত অনেক প্রবাসী তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিংবা তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে থাকেন। মুনাফার হার কমলে প্রবাসীদের মাসিক বা বার্ষিক আয় কিছুটা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে যেসব প্রবাসী বড় অঙ্কের অর্থ এককালীন বিনিয়োগ করে নিয়মিত মুনাফার ওপর নির্ভর করেন, তাদের জন্য নতুন হার তুলনামূলক কম লাভজনক হতে পারে। ফলে কেউ কেউ ব্যাংক ডিপোজিট, প্রবাসী বন্ড কিংবা অন্য বিনিয়োগ মাধ্যমে ঝুঁকতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবটি এখনো তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছায়নি। তবে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর দাবি রয়েছে। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সঞ্চয়পত্রে বেশি মুনাফার কারণে বড় অঙ্কের অর্থ সরকারি খাতে চলে যাচ্ছে। হার কিছুটা কমলে সেই অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরবে, যা বেসরকারি খাতের ঋণ ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবের মুনাফার হারে আপাতত কোনো পরিবর্তন আসছে না। ফলে প্রবাসীদের জন্য বিশেষভাবে চালু এসব বন্ডে বিনিয়োগকারীরা স্বস্তিতে থাকতে পারেন।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ২ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা।

Logo