Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

এআইর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রেমিট্যান্সের উত্থান

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০১

এআইর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রেমিট্যান্সের উত্থান

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা দেয়। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। এই রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বাড়াতে, বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা রাখতে এবং লক্ষ লক্ষ পরিবারের জীবনধারাকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের শ্রমিকরা এই প্রবাহের মূল চালিকাশক্তি। 

কিন্তু এই উৎসাহব্যঞ্জক চিত্রের পেছনে লুকিয়ে আছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং রোবটিকসের মাধ্যমে বিশ্ব এখন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের মূলত সাধারণ শ্রমের ওপর নির্ভরশীলতা এই পরিবর্তনের জন্য দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। নির্মাণ, সেবা, লজিস্টিকস এবং অন্যান্য খাতে রোবট ও এআইর ব্যবহার বাড়তে থাকলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাকরি সংকুচিত হতে পারে, ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহও কমে যেতে পারে। ব্যাংকিং এক্সপার্ট সালেকিন ইব্রাহীম ডেইলি স্টারে লেখা তার এক কলামে এ শঙ্কার কথা প্রকাশ করেন।

বিশ্ব অর্থনীতি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত নতুন প্রযুক্তি ১১ মিলিয়ন নতুন চাকরি সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু রোবোটিকস ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পাঁচ মিলিয়ন চাকরি কমাতে পারে। এছাড়া জেনারেটিভ এআই প্রায় এক-চতুর্থাংশ চাকরিকে পরিবর্তনের মুখে ফেলতে পারে। বাংলাদেশি প্রবাসীরা যেসব চাকরিতে নিয়োজিত- নির্দিষ্ট কাজ, দৈনিক পুনরাবৃত্তি বা ম্যানুয়াল কাজ; সেগুলো এআই ও অটোমেশন দ্বারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

সরকারকে এখনই পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রথমে একটি বিস্তৃত গবেষণা করা উচিত, যেখানে প্রবাসীদের মূল খাত, যেমন নির্মাণ, সেবা, লজিস্টিকস এবং গুদামজাতকরণ, চিহ্নিত করে দেখা হবে কোন কোন খাত সবচেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয়করণের ঝুঁকিতে। এরপর একটি পূর্বসতর্কতা ব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে, যাতে প্রধান শ্রম ক্ষেত্রগুলোতে অটোমেশন দ্রুত বৃদ্ধি পেলে নীতিনির্ধারকরা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে।

একই সঙ্গে, অভিবাসন নীতি ও প্রশিক্ষণে দৃষ্টি পরিবর্তন করা জরুরি। নিচু-দক্ষ শ্রমিকদের পরিবর্তে দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে হবে, যারা ডিজিটাল স্কিল, অটোমেশন ইন্টারফেস এবং মানব-রোবট সহযোগিতায় সক্ষম। সরকার দেশীয় বা গন্তব্য দেশের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালাতে পারে, যাতে প্রবাসীরা নতুন দক্ষতায় দক্ষ হয়ে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বজায় রাখতে পারে।

দ্বিপক্ষীয় শ্রম চুক্তি গঠনের সময় এমন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে, যেখানে রোবট মানুষের স্থান নেবে না। যেমন বৃদ্ধ-পরিচর্যা, বিশেষায়িত মেইনটেন্যান্স, স্মার্ট ফ্যাসিলিটি অপারেশন। পাশাপাশি বাংলাদেশে অটোমেশন-সহনশীল খাত যেমন ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ প্রযুক্তি, রোবট মেইনটেন্যান্স এবং ফ্রিল্যান্সিং সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করা উচিত। রেমিট্যান্সের ভবিষ্যৎ কেবল বিদেশের শ্রমিকদের ওপর নয়, বরং রপ্তানি ও দক্ষ কর্মশক্তির ওপরও নির্ভর করবে।

রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আশার একটি মূল উৎস। এটি পরিবারকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে, গ্রামগুলোকে বদলিয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা মজুতকে শক্তিশালী করেছে। কিন্তু শুধু আশা যথেষ্ট নয়। আগামী বিশ্বে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিযোজন ক্ষমতা সবচেয়ে মূল্যবান হবে। বাংলাদেশ যদি এখনই শিক্ষা, ডিজিটাল স্কিল এবং ‘স্মার্ট’ অভিবাসনে বিনিয়োগ করে, তবে এআই ও রোবটিকসের চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব। প্রয়োজন দূরদর্শিতা, পরিকল্পনা এবং দৃঢ় সংকল্প, যাতে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রা মজুত সুরক্ষিত থাকে।

Logo