মুদ্রাবাজারে নতুন রেকর্ড গড়েছে ভারতের রুপি। ডলারের বিপরীতে রুপির দাম কমতে কমতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। গত মঙ্গলবার সকালে প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির দর দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ৮৩। ডলারের বিপরীতে এটিই এখন পর্যন্ত রুপির সর্বনিম্ন মান। এই পরিস্থিতিতে ভারতে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি ভ্রমণকারীরা আর্থিকভাবে কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২১ ডিসেম্বর লেনদেন শুরু হয় ৮৯ দশমিক ৫৮ রুপিতে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে শিগগিরই ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৯১ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভারতের প্রভাবশালী অর্থনৈতিক দৈনিক ইকোনমিক টাইমস জানায়, মূলত শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ তুলে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে রুপির ওপর চাপ বাড়ছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রুপির দর নিম্নমুখী। গতকাল বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক হারে রুপি বিক্রি করায় একপর্যায়ে ডলারের বিপরীতে দর ৯০ দশমিক ৮০ পর্যন্ত উঠে যায়। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও এক দিনে রুপির দাম কমেছে প্রায় ২৯ পয়সা।
ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। একই সঙ্গে বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। এই দুই কারণে রুপির ওপর চাপ আরো বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা।
তবে সামগ্রিকভাবে ভারতের অর্থনীতির সূচকগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে; অক্টোবরে তা ছিল শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ, নভেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশে। জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ভিকে বিজয়কুমার টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, রুপির ওপর চাপ স্থায়ী হবে না। তার মতে, বাণিজ্য ঘাটতি কমতে থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। অক্টোবরে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৪১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার, যা নভেম্বরে কমে দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে।
এই দরপতনের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের ওপরও। বাংলাদেশে কয়েক মাস ধরে ডলারের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল। ডলারের বিপরীতে টাকার মান ১২২ টাকার কিছুটা ওপরে থাকলেও তা ১২৩ টাকার মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে ডলার কিনে ভারতে গিয়ে তা ভাঙালে আগের তুলনায় বেশি রুপি পাওয়া যাচ্ছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির দাম ছিল ৮৪ থেকে ৮৫। বর্তমানে তা প্রায় ৯০-এর কাছাকাছি। অর্থাৎ প্রতি ডলারে প্রায় ছয় রুপি বেশি পাচ্ছেন বাংলাদেশি ভ্রমণকারীরা। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতীয় ভিসা-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতায় বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভারতের অনেক ব্যবসায়ী এই সুযোগের পুরো সুফল পাচ্ছেন না। ভারতের গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)