সুদানে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ ফিরছে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১২
সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় শান্তিরক্ষীর মরদেহ ২০ ডিসেম্বর দেশে আনা হচ্ছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। দেশে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় তাদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে।
আইএসপিআর জানায়, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলায় ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন এবং আহত হন আরো ৯ জন।
নিহত শান্তিরক্ষীরা হলেন- নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মণ্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।
আহত ৯ জন শান্তিরক্ষী বর্তমানে কেনিয়ার নাইরোবির আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, তাদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বাকিরাও শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন নারী সদস্য আছেন।
আহত সেনাসদস্যরা হলেন- লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, করপোরাল আফরোজা পারভিন, ল্যান্স করপোরাল মহিবুল ইসলাম, সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, সৈনিক মোসা. উম্মে হানি আক্তার, সৈনিক চুমকি আক্তার এবং সৈনিক মো. মানাজির আহসান।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, জাতিসংঘের পতাকাতলে বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করা এই ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর আত্মত্যাগ শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
আইএসপিআর জানায়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হলেও বাংলাদেশ এতে যুক্ত হয় ১৯৮৮ সালে। ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক মিশনে ১৫ জন সদস্য পাঠানোর মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ১০টি দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করছে। প্রথমবারের মতো ডিআর কঙ্গোতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তিনটি হেলিকপ্টারও মোতায়েন করা হয়েছে।
শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ১৬৮ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১৩১ জন, নৌবাহিনীর ৪ জন, বিমানবাহিনীর ৬ জন এবং পুলিশের ২৪ জন সদস্য রয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৭২ জন।
যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কল্যাণ, পুনর্গঠন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নারী ও শিশু সুরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। সুদানসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কঠিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন দেওয়া এই ছয় বীর শনিবার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরছেন। রাষ্ট্রীয় সম্মানে তাঁদের শেষ বিদায় জানাতে প্রস্তুত দেশ।
logo-1-1740906910.png)