প্রবাস অর্থনীতির খবর
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুরক্ষা জরুরি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৮
১৮ ডিসেম্বর ছিল আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস; বিশ্বের অর্থনীতি ও সমাজ গঠনে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান স্মরণ করার দিন। বাংলাদেশের জন্য এই অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশটি রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। এই আয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছে, পরিশোধ ভারসাম্য স্থিতিশীল রাখছে এবং লাখো পরিবারের জীবিকা টিকিয়ে রাখছে।
তবে রেমিট্যান্সের এই সাফল্যের আড়ালে রয়েছে আরেকটি বাস্তবতা। অভিবাসী শ্রমিকরা দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর একটি। অনিরাপদ অভিবাসন, প্রতারণা, শোষণ এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার মুখে পড়ছেন অনেকেই। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সংকট ও করণীয় বিষয়ে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে দ্য ডেইলি স্টার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসনে আগ্রহী বহু মানুষ শক্তিশালী নিয়োগ সিন্ডিকেটের কবলে পড়ছেন। মধ্যস্বত্বভোগী, সাব-এজেন্ট এবং কখনো লাইসেন্সধারী এজেন্সির মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ফলে অভিবাসনে যাওয়ার আগেই শ্রমিকরা ঋণের বোঝায় জড়িয়ে পড়ছেন। গন্তব্যে পৌঁছে অনেকেই দেখছেন, প্রতিশ্রুত চাকরি নেই, মজুরি কম, কিংবা কাজের পরিবেশ অমানবিক।
গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় নারী ও পুরুষ শ্রমিকের মৃত্যু, নির্যাতন, চিকিৎসা না পাওয়া এবং সহায়তা পাওয়ার জায়গা না থাকার খবর এসেছে। এ ছাড়া মানব পাচার চক্রের প্রলোভনে পড়ে অনেকে সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নামছেন। অনেক ক্ষেত্রে অপহরণ, নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। কেউ কেউ প্রাণ হারাচ্ছেন সমুদ্রে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ অভিবাসী শ্রমিক কম বা আধা-দক্ষ। ফলে তারা কম আয়ের কাজে সীমাবদ্ধ থাকেন। যেসব দেশে দক্ষ শ্রমিক বেশি, সেখান থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি রেমিট্যান্স আসে, যদিও শ্রমিকের সংখ্যা কম। একই সঙ্গে কয়েকটি গালফ দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা রেমিট্যান্স প্রবাহকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। নীতিগত পরিবর্তন বা অর্থনৈতিক সংকটে এই বাজারগুলো অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। তাই পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপসহ নতুন গন্তব্যে বাজার বৈচিত্র্য জরুরি বলে মত সংশ্লিষ্টদের।
এ ক্ষেত্রে সরকারকে নৈতিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা দালাল ও প্রতারণামুক্ত ব্যবস্থা গড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এর অর্থ অবৈধ সাব-এজেন্ট ও মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
একই সঙ্গে দেশে ফিরে আসা কর্মহীন অভিবাসীদের জন্য কর্মসংস্থান, ঋণ সুবিধা এবং সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর দাবিও উঠছে। অর্থনৈতিক সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কিংবা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়েও অভিবাসী শ্রমিকরা দেশের পাশে থেকেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন সময় তাদের যথাযথ সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করার।
logo-1-1740906910.png)