Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিকল্প শ্রমবাজার তৈরি না হলে বিপদ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮:১৩

বিকল্প শ্রমবাজার তৈরি না হলে বিপদ

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী পাঠানো গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এর বড় অংশই অদক্ষ কর্মী, যারা মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ার মতো বাজারে কম বেতনে কাজ করছেন। দক্ষ কর্মী পাঠানোর হার তুলনামূলকভাবে কমেছে। গত অর্থবছরে দক্ষ কর্মীর সংখ্যা আরো কমে যায়। এ প্রেক্ষাপটে ১৮ ডিসেম্বর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য- “দক্ষতা নিয়ে যাব বিদেশ, রেমিট্যান্স দিয়ে গড়ব স্বদেশ।”

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশে গেছেন প্রায় ১২ লাখ কর্মী, এর মধ্যে দক্ষ কর্মী ছিলেন ২৬ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশে গেছেন ১০ লাখ ১৫ হাজার কর্মী, এর মধ্যে দক্ষ কর্মী মাত্র ১৮ শতাংশ। পেশাদার কর্মী ছিলেন মাত্র ৩ শতাংশ। অন্যদিকে স্বল্প দক্ষ কর্মী ছিলেন প্রায় ৫৯ শতাংশ।

অন্তর্বর্তী সরকার দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর জোর দিয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশকে লক্ষ্য করে চুক্তি করা হয়েছে।

জাপান: পাঁচ বছরে এক লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রকল্প চলছে।

দক্ষিণ কোরিয়া: মৌসুমি কর্মী পাঠাতে একটি প্রদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

ইতালি: সিজনাল ও নন-সিজনাল কর্মী পাঠাতে চুক্তি হয়েছে।

ইউরোপ: আন্তর্জাতিক নার্সিং সার্টিফিকেশন কোর্স চালু করে দক্ষ নার্স পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা মাত্র সূচনা করেছি। ছয় মাসে জাপানে ৬ হাজারের বেশি কর্মী পাঠানো হয়েছে। আগামী তিন বছরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসবে।”

কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া এখনো দালাল ও পরিচিতদের মাধ্যমে হয়। নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতেই বেশি কর্মী যাচ্ছেন, যেখানে দক্ষতার প্রয়োজন নেই। পর্যাপ্ত কারিগরি প্রশিক্ষণ অবকাঠামো নেই। টিটিসি থেকে প্রশিক্ষিতদের সনদ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়।

রামরুর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, “দক্ষ কর্মী পাঠাতে হলে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় কারিগরি শিক্ষার পরিধি বাড়াতে হবে। প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।”

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মী গেছেন ১৪১টি দেশে। তবে লাখের বেশি কর্মী গেছেন মাত্র দুটি দেশে সৌদি আরব ও কাতার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিলিপাইন বহু আগে থেকেই দক্ষ কর্মী তৈরির উদ্যোগ নিয়ে সফল হয়েছে। বাংলাদেশও যদি দক্ষ কর্মী তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ায়, তবে জাপান ও ইউরোপের মতো বাজারে তিন-চার গুণ বেশি আয় সম্ভব। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

Logo