Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিদেশে নারীকর্মী পাঠিয়ে আর খবর নেই!

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:১৮

বিদেশে নারীকর্মী পাঠিয়ে আর খবর নেই!

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে নারীকর্মী পাঠানোর সর্বোচ্চ তালিকায় রয়েছে গৃহকর্মী, শিশু পরিচারিকা, রাঁধুনি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পেশা। এসব পেশায় গিয়েই সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও শোষণের শিকার হচ্ছেন নারীরা। গত পাঁচ বছরে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার নারীকর্মী বিভিন্ন দেশে গেছেন। তবে তাদের কতজন দেশে ফিরেছেন, সে তথ্য সংরক্ষিত নেই।  

এখন টিভির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ঢাকার জুরাইনের ডালিয়া সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে যান। ভাষা না জানা ও দক্ষতার অভাবে তিনি বারবার মারধরের শিকার হন। কর্মস্থল পরিবর্তনের পর মালিক পরিবারের লোলুপ দৃষ্টি তার ওপর পড়ে। নির্যাতন থেকে বাঁচতে জানালা ভেঙে ঝাঁপ দিলে তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। দেশে ফিরে তিনি বিচ্ছিন্ন জীবনে দিন কাটাচ্ছেন।  

মানিকগঞ্জের তারা মিয়া মেয়েকে পাঠিয়েছিলেন জর্ডানে। গৃহকর্মী হিসেবে সেখানে যাওয়ার পর মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বছরখানেক পর মেয়েকে ফেরত পাওয়া যায় অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়। এখন তিনি কন্যা সন্তানের জন্মনিবন্ধন করাতে পারছেন না পিতৃপরিচয়ের অভাবে।  

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার নারীকর্মী বিদেশে গেছেন। চলতি বছরেও ৫০ হাজারের বেশি নারী কর্মী প্রবাসে গেছেন। সর্বাধিক গন্তব্য সৌদি আরব, জাপান ও কাতার। পূর্বে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও ছিল তালিকায়। গৃহকর্মী, শিশু পরিচারিকা, রাঁধুনি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে গেছেন প্রায় ৩৫ হাজার নারী।  

ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ওয়্যারবির পরিচালক জাছিয়া খাতুন বলেন, “ফেরত আসা নারীদের তথ্য থাকলে তাদের কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন সহজ হতো।”  

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের পরিচালক মেরিনা সুলতানা বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের স্টিগমা ভাঙতে হবে। যদি নিরাপদ না হয়, তবে নিরাপদ করার উদ্যোগ নিতে হবে।”  

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম বলেন, “নারীরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে ফেরত আসে। পরিবার ও সমাজে তারা নিগৃহীত হয়। সরকারিভাবে সমন্বিত সাপোর্ট মেকানিজম তৈরি করা জরুরি।”  

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীকর্মীদের বিদেশে পাঠানোর আগে কর্মসংস্থানের যথাযথ খোঁজখবর নিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ফিরে আসা কর্মীদের জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

Logo