Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের খোঁজ নেয় না কেউ, উল্টো পদে পদে হয়রানি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০:৩৩

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের খোঁজ নেয় না কেউ, উল্টো পদে পদে হয়রানি

দেশে ফেরা প্রবাসীর লাগেজ কাটা ও মালপত্র চুরি নতুন কিছু নয়। পদে পদে হয়রানি, অচেনা দেশে কঠিন পরিবেশে কাজ, আর দেশে ফেরার পথে স্বজনের জন্য আনা খানিক উপহার লুট হলে, দিশেহারা হয়ে যান প্রবাসী কর্মীরা। সম্প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের লাগেজ কাটার খবর ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে। 

অনেক সময় দেশের বিমানবন্দরেও ঘটে নানা হয়রানি। সম্প্রতি ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট আগে ফ্লাইটে বোর্ডিং পাস না দেওয়াসহ নানা ঘটনায় হাঙ্গামার খবর ভেসে বেড়ায় ইন্টারনেট দুনিয়ায়। 

প্রবাসীদের এমন আরো নানা হয়রানির কথা তুলে ধরে তা প্রতিরোধে জোর দাবি তুলেছে প্রবাসীদের বিভিন্ন সংগঠন। গত ১৪ ডিসেম্বর ‘আমরা সচেতন রেমিট্যান্স যোদ্ধার’ ব্যানারে প্রবাসীদের এক সংবাদ সম্মেলনে ১৯ দফা দাবির কথা তুলে ধরেছেন সংগঠনের নেতারা। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হচ্ছে, হয়রানিমুক্তভাবে পাসপোর্ট সরবরাহ, প্রবাস যেতে উচ্ছুক কর্মীদের সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ, বাংলাদেশি মিশনে সম্মানজনক সেবা ও পর্যবেক্ষণ, বিদেশ যাওয়ার খরচ কমানো, ফ্লাইটের টিকিটের খরচ সহনীয় করা, কর্মীদের দক্ষ করে বিদেশ পাঠানো।   

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে দাবিনামা তুলে ধরেন প্রবাসী সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম রাজিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি। 

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা অভিযোগ করেছেন, সৌদিতে ইকামার সমস্যায় বেকার হয়ে, অবৈধ হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। নতুন করে ইকামার টাকা জোগাড় করতে বাড়ছে বাংলাদেশিদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা। মহিউদ্দিন রনি অভিযোগ করেন, সৌদির বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে অপহরণের বিষয়ে অভিযোগ জানানোর পরও ঘটনার সুরাহা হচ্ছে না, দূতাবাস কিংবা সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।  

সৌদি আরবের প্রবাসী ইলিয়াস হোসেন অভিযোগ করেন, দেশে পাসপোর্ট করানো থেকে শুরু করে, ভিসা, মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পেতে সবখানে দালালের উপদ্রুব দিশেহারা করে দিচ্ছে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের। 

আর নানা দেশে ফ্রি ভিসায় কর্মী পাঠিয়ে বিপদে ফেলা হচ্ছে কর্মীদের। এমনকি ইমিগ্রেশন পুলিশের অদক্ষতার কারণেও তাদের বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। জাপান প্রবাসী সাংবাদিক ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অনেক সময় বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ বিভিন্ন দেশের ভিসার নিয়ম কিংবা ভাষা সম্পর্কে জানে না। তাদের অজ্ঞতার কারণেই বিদেশগামী কর্মীদের হয়রানি হতে হচ্ছে।   

সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১০ লাখ কর্মী গেছেন সৌদি, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশে পাঠাচ্ছেন রেমিট্যান্স, সমৃদ্ধ হচ্ছে বেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ। কিন্তু রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশে পাচ্ছেন না যথাযথ সহযোগিতা। তাই দাবি মানা না হলে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।

Logo