বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীরা কখনো কখনো ইমিগ্রেশন, কাস্টমস বা লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের সময় হয়রানি কিংবা মালামাল হারানোর সমস্যার মুখোমুখি হন। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা পাওয়ার জন্য কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
প্রথমত, কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ করতে হবে। বিমানবন্দরের টার্মিনাল বা এয়ারপোর্ট ম্যানেজার অফিসে অভিযোগ জানানো যায়। শাহজালালসহ অন্যান্য বিমানবন্দরে যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য আলাদা হেল্প ডেস্ক রয়েছে। লাগেজ হারালে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কাউন্টারে গিয়ে Property Irregularity Report (PIR) ফর্ম পূরণ করতে হবে। এটি লাগেজ হারানোর একমাত্র বৈধ প্রমাণ।
দ্বিতীয়ত, ইমিগ্রেশন বা কাস্টমস কর্মকর্তাদের দ্বারা হয়রানির শিকার হলে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (CAAB)-এর নির্বাহী পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করা যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করা সম্ভব। আর্থিক লেনদেন বা দুর্নীতিমূলক আচরণের ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের হটলাইন ১০৬-এ অভিযোগ জানানো যায়।
তৃতীয়ত, প্রমাণ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ করার সময় একটি রিসিভ কপি বা সিলযুক্ত কপি রাখতে হবে। ঘটনার সময়, তারিখ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ব্যাজ নম্বর এবং কাউন্টার নম্বর লিখে রাখা উচিত। সম্ভব হলে ভিডিও বা ছবি সংরক্ষণ করতে হবে, তবে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ কিছু স্থানে ছবি তোলা নিষিদ্ধ।
চতুর্থত, লাগেজ বা গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংক্রান্ত সমস্যায় বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট হটলাইন নম্বর ব্যবহার করা যায়। এসব নম্বর বিমানবন্দরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, লাগেজ হারানো বা ক্ষতির অভিযোগ বিমানবন্দর ত্যাগের আগেই পিআইআর ফর্ম পূরণ করতে হবে। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে গেলে অভিযোগ গ্রহণ ও সমাধান প্রক্রিয়া অনেক কঠিন হয়ে যায়।
এই নির্দেশনাগুলো মেনে চললে যাত্রীরা বিমানবন্দরে হয়রানি বা মালামাল হারানোর মতো সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত সহায়তা পেতে পারেন এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবেন।
logo-1-1740906910.png)