Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিদেশফেরত কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে সরকার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ১০:০১

বিদেশফেরত কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে সরকার

প্রবাসী কর্মীদের সমস্যার সমাধান এবং অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড নিয়মিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে রেইজ (রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট) প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বিভাগীয় সমন্বয় সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এ তথ্য দেন। 

২০ নভেম্বর বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় তিনি বলেন, প্রবাসী কর্মীরা বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। তাদের অধিকার রক্ষা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কল্যাণ বোর্ড সর্বদা কাজ করছে। রেইজ প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত প্রথম এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিইন্টিগ্রেশন প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রবাসফেরত ২ লাখ ৫৩ হাজার কর্মীকে নিবন্ধন, ওরিয়েন্টেশন, কাউন্সেলিং এবং এককালীন প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।  

তিনি আরো জানান, প্রবাসফেরত কর্মীদের সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত সেবা প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে ৩৫টি প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের মাধ্যমে প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দক্ষ হয়ে ফেরত আসা কর্মীদের আরপিএল সনদ প্রদানের ব্যবস্থাও রয়েছে। মূলত কর্মীদের উদ্যোক্তা সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ এবং আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানে যুক্ত করাই এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।  

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, রেইজ প্রকল্পের সমন্বয়কারী এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।  

সভায় চট্টগ্রাম জেলার ১০৯ জনকে মোট ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৪৬ হাজার ১৬৯ টাকা এবং ফেনী জেলার ১১২ জনকে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ২১ হাজার ৪২৬ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আর্থিক অনুদান হিসেবে ৩১ জনকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৯৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। জীবন বিমা সুবিধা হিসেবে ১০ জনকে ১০ লাখ টাকা করে ১ কোটি টাকা দেওয়া হয়। বকেয়া ও মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ জনকে ১ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। প্রত্যাগত কর্মীর বিমা সুবিধা হিসেবে ৫ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে ৩৩ জনকে ১২ হাজার টাকা করে মোট ৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া শিক্ষাবৃত্তি হিসেবে ২০ জনকে ৩৪ হাজার টাকা করে মোট ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।  

সভায় বক্তারা বলেন, প্রবাসী কর্মীরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাদের অধিকার রক্ষা, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে রেইজ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

Logo