মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ১০ শর্ত নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:০০
বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুযোগ অবারিত করা এবং সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। রাজধানীর একটি হোটেলে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সম্প্রতি কর্মী নিয়োগে যে ১০টি শর্ত দিয়েছে, তার কয়েকটিতে বাংলাদেশ সরকার শক্ত আপত্তি জানিয়েছে। দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদে আরো জানা যায়, শর্তগুলো পূরণের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে আলোচনা করেছি। বেশির ভাগ শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয়। এগুলো মানতে গেলে আবার সিন্ডিকেট তৈরি হবে।” তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ চায় শ্রমবাজার যেন সব এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত থাকে। এ জন্য শর্তগুলো শিথিল করা জরুরি। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শর্ত শিথিল না হওয়া পর্যন্ত এবং শ্রমবাজার অবারিত না হওয়া পর্যন্ত মালয়েশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। অতীতে সিন্ডিকেট ও জটিলতার কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বহুবার বন্ধ হয়েছে। ২০১৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে বাজার বন্ধ হয়, পরে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নতুন চুক্তির মাধ্যমে ২০২২ সালে পুনরায় চালু হয়। কিন্তু সম্প্রতি মালয়েশিয়া বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল ও মায়ানমার থেকে কর্মী নিয়োগে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
গত অক্টোবরের শেষ দিকে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি চিঠি দিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা যৌক্তিক করার জন্য ১০টি বাধ্যতামূলক মানদণ্ড নির্ধারণ করে। তাদের দাবি, এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-
- কমপক্ষে ৫ বছর কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে
- গত ৫ বছরে অন্তত ৩ হাজার কর্মী পাঠানোর রেকর্ড থাকতে হবে
- অন্তত ৩টি দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে
- কমপক্ষে ১০ হাজার বর্গফুটের নিজস্ব স্থায়ী অফিস থাকতে হবে
- নিজস্ব প্রশিক্ষণ সুবিধা থাকতে হবে
- মানব পাচার, জোরপূর্বক শ্রম, মানি লন্ডারিং বা অন্য কোনো অপরাধে সংশ্লিষ্ট না থাকার রেকর্ড থাকতে হবে
বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সংগঠনসহ অনেকেই এসব শর্তকে ‘অযৌক্তিক, অবাস্তব ও বৈষম্যমূলক’ বলে মনে করছেন। তাদের আশঙ্কা, এত কঠোর মানদণ্ড পূরণ করা অধিকাংশ এজেন্সির পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারো হাতেগোনা কয়েকটি এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে এবং অভিবাসন ব্যয় বাড়তে পারে।
logo-1-1740906910.png)