অভিবাসন খাত: কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির প্রাণশক্তি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৪
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অভিবাসন খাত সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতগুলোর একটি। প্রতি বছর লক্ষাধিক বেকার যুবক বিদেশে গিয়ে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সরকার এখনো এই খাতকে অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতের মতো গুরুত্ব দিচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী গত পাঁচ বছরের চিত্র হলো:
- ২০২০: প্রায় ৬ লাখ কর্মী বিদেশে গেছেন। রেমিট্যান্স এসেছে ২১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- ২০২১: কোভিড-পরবর্তী সময়ে কর্মী প্রেরণ বেড়ে দাঁড়ায় ৭ লাখে। রেমিট্যান্স রেকর্ড হয় ২২.১ বিলিয়ন ডলার।
- ২০২২: প্রায় ৮ লাখ কর্মী বিদেশে যান। রেমিট্যান্স সামান্য কমে দাঁড়ায় ২১ বিলিয়ন ডলার।
- ২০২৩: কর্মী প্রেরণ ৯ লাখ ছাড়ায়। রেমিট্যান্স বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ বিলিয়ন ডলার।
- ২০২৪: প্রায় ১০ লাখ কর্মী বিদেশে যান। রেমিট্যান্সে বড় উল্লম্ফন ঘটে, দাঁড়ায় ২৬.৯ বিলিয়ন ডলার।
এই পাঁচ বছরে মোট প্রায় ৪০ লাখ কর্মী বিদেশে গেছেন এবং রেমিট্যান্স আয় হয়েছে প্রায় ১১৫ বিলিয়ন ডলার।
রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে। বিদেশে কর্মরত শ্রমিকরা তাদের পরিবারকে নিয়মিত অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে-
- গ্রামে বাড়ি নির্মাণ, জমি ক্রয় ও কৃষি বিনিয়োগ বেড়েছে।
- স্থানীয় ব্যবসা যেমন দোকান, পরিবহন, কৃষি যন্ত্রপাতি বিক্রি; সবই সমৃদ্ধ হয়েছে।
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বেড়ে গ্রামীণ জীবনমান উন্নত হয়েছে।
- নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়ন ঘটেছে। কারণ অনেক পরিবারে রেমিট্যান্সের অর্থ নারীরা পরিচালনা করছেন।
অভিবাসন খাত শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে কর্মরত শ্রমিকরা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। তাদের আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখছে।
তবে দুঃখজনকভাবে অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতের মতো মর্যাদা পায় না। পোশাক শিল্প বা কৃষি খাতের মতো নীতিগত সহায়তা, কর সুবিধা বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন অভিবাসন খাতে নেই। অথচ এই খাতের অবদান দেশের অর্থনীতিতে কোনো অংশে কম নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসন খাতকে জাতীয় উৎপাদনশীল খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে নীতিগত সহায়তা প্রদান এবং শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অভিবাসন খাতের অবদান যুগান্তকারী। গত পাঁচ বছরে লক্ষাধিক বেকার যুবক কর্মসংস্থান পেয়েছেন, শত শত কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়েছে। তাই অভিবাসন খাতকে মর্যাদা ও স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। অন্যথায় দেশের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এই খাত অবহেলিত থেকে যাবে।
logo-1-1740906910.png)