আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কানাডা সরকার। সাম্প্রতিক ঘোষণায় দেশটি জানিয়েছে, আগামী বছরে স্টাডি পারমিটের সংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কানাডার নতুন বাজেট ও অভিবাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৫ হাজার ৯০০টি নতুন স্টাডি পারমিট ইস্যুর লক্ষ্য ছিল, সেখানে ২০২৬ সালে তা কমিয়ে আনা হবে ১ লাখ ৫৫ হাজারে। পরবর্তী দুই বছর, অর্থাৎ ২০২৭ ও ২০২৮ সালেও এই সীমা ১ লাখ ৫০ হাজারে ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশটির আবাসন সংকট, স্বাস্থ্যসেবার চাপ এবং শিক্ষা অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা মোকাবিলাই এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কানাডার বিভিন্ন শহরে ছাত্রাবাস ও ভাড়াবাড়ির অভাব দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায়ও প্রভাব ফেলছে।
তবে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডায় পড়াশোনার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে এবং অনেক শিক্ষার্থী বিকল্প দেশ বেছে নিতে বাধ্য হবে। যদিও সরকার জানিয়েছে, স্নাতকোত্তর বা গ্র্যাজুয়েট ও গবেষণামূলক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হতে পারে, যাতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বজায় থাকে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত একটি বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে। কারণ কানাডা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে উচ্চশিক্ষার অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত ছিল।
logo-1-1740906910.png)