Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

প্রবাসে কেউ মারা গেলে সরকার কী করে?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৫

প্রবাসে কেউ মারা গেলে সরকার কী করে?

প্রবাসে কোনো প্রবাসী মারা গেলে স্বজনদের জন্য আন্তরিক সহায়তা এবং দেহের দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রসেস শুরু করে সরকার। প্রথম ধাপে বাংলাদেশে অবস্থানরত নিকটস্থ কনস্যুলেট বা দূতাবাস মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর প্রাথমিক কাগজপত্র, মৃত্যুসনদ ও স্থানীয় থানায় করা রিপোর্টের অনুলিপি নিযুক্ত কূটনৈতিক অফিসে জমা দিতে হয়। কনস্যুলেট বা দূতাবাস সাধারণত প্রয়োজনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মৃতদেহের সঠিক শনাক্তকরণ ও কাগজপত্র নিশ্চিত করে এবং পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়।

মৃতদেহের দেশে প্রেরণের জন্য সাধারণত দুটি পথ থাকে- সরকারি ব্যবস্থাপনায় (যখন পরিবার রাষ্ট্রীয় সহায়তা চায় বা প্রয়োজনে অপরিহার্য) এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় (পরিবার নিজে খরচ বহন করে কফিন ও ফ্লাইটের বন্দোবস্ত করে)। প্রবাসীদের কল্যাণ সংক্রান্ত সরকারি সংস্থা ও ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও পদক্ষেপ নির্ধারণ করে থাকে, যাতে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থাপনা সম্ভব হয়. সরকারিভাবে রেপ্যাট্রিয়েশন বা লাশ পাঠানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, মেডিকেল বা ফরেনসিক রিপোর্ট, কনস্যুলেট/দূতাবাসের সার্টিফিকেট এবং বিমান লাইনে নির্দিষ্ট কনটেইনার বা কফিন-সংক্রান্ত বিধি মানা আবশ্যক।

আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা হয়; বিশেষত যদি প্রবাসীর পরিবার আর্থিকভাবে দুরবস্থায় থাকে। প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা বা পুনর্বাসনমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়; তবে এই ধরনের সহায়তা দেওয়ার শর্ত, সীমা এবং আবেদন প্রক্রিয়া মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে ও তা অনলাইনে বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানা যায়। কনস্যুলেট বা দূতাবাসের মাধ্যমে মৃতদেহের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে সময়, খরচ এবং স্থানীয় আইন-ব্যবস্থা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটাতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

প্রবাসে জেলে মারা গেলে বা অপরাধজনিত কারণে মৃত্যুর ঘটনায় কাগজপত্র, মৃতদেহ হস্তান্তর এবং আইনগত জটিলতা আরো বাড়ে। এসব ক্ষেত্রে কনস্যুলেটের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, আইনজীবী ও প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার হয়। 

এছাড়া প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য প্রকল্প ও অনলাইন সেবা চালু আছে, যেখানে পরিবার দ্রুত তথ্য জানতে এবং আবেদন করতে পারে। 

সরকারের ওয়েবসাইটে মৃত্যুর পর প্রক্রিয়া, ফ্লোচার্ট ও প্রয়োজনীয় ফর্ম-পত্রের তালিকা প্রকাশিত রয়েছে, যার মাধ্যমে পরিবারগুলো স্টেপ-বাই-স্টেপ নির্দেশনা পেতে পারে।

Logo