মালয়েশিয়ার ১০ শর্তের তিনটি শিথিলের অনুরোধ বাংলাদেশের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৬
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর নতুন উদ্যোগে দেশটির সরকার রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য ১০টি কঠিন শর্ত দিয়েছে। তবে এসব শর্তের মধ্যে তিনটি শিথিলের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ৪ নভেম্বর মালয়েশিয়া সরকারকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। দৈনিক কালের কণ্ঠ তাদের প্রকাশিত সংবাদে এ তথ্য জানায়।
এর আগে ৩০ অক্টোবর জনশক্তি রপ্তানিকারক সংগঠন বায়রা এসব শর্তকে অযৌক্তিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেয়।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকার যে তিনটি শর্ত শিথিলের অনুরোধ জানিয়েছে, সেগুলো হলো রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসের আয়তন, নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকা এবং গত পাঁচ বছরে তিন হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানোর জন্য নির্ধারিত সময়সীমা (১৪ নভেম্বর) বাড়ানোরও অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ শওকাত আলী বলেন, “এই তিনটি শর্ত থাকলে আগের মতো সিন্ডিকেটের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। সরকার চায়, শ্রমবাজার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক।”
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মালয়েশিয়ার শর্ত অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সির কমপক্ষে ১০ হাজার বর্গফুট আয়তনের অফিস থাকতে হবে, যা অধিকাংশ এজেন্সির নেই। একইভাবে নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকা বাধ্যতামূলক করা হলেও অধিকাংশ এজেন্সি বিএমইটি ও টিটিসির প্রশিক্ষণ সুবিধা ব্যবহার করে। তৃতীয় শর্ত অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে তিন হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, যা নতুন এজেন্সিগুলোর জন্য বাস্তবসম্মত নয়।
মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব জানান, মালয়েশিয়া এই শর্তগুলো শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্যও দিয়েছে এবং এসব দেশও বিরোধিতা করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের অনুরোধে অন্তত তিনটি শর্ত শিথিল করা হবে।
অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কঠিন শর্ত বাস্তবায়িত হলে আবারো নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সি বাজার দখল করতে পারে, যা সিন্ডিকেট গঠনের ঝুঁকি তৈরি করবে।
এদিকে, গত বছরের ৩১ মে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা ১৭ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রথম দফায় ৭ হাজার ৮২৩ জনকে নির্বাচিত করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র তিন হাজার কর্মী আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন বোয়েসেলের এমডি সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, নির্মাণ খাতের জন্য চাহিদাপত্র পাওয়া গেলেও পর্যটন খাতের কোনো চাহিদা এখনো আসেনি। নির্বাচিত কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চলছে।
logo-1-1740906910.png)