Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি এবং মার্কিন বাংলাদেশিদের ভবিষ্যৎ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৫৩

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি এবং মার্কিন বাংলাদেশিদের ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য। উন্নত জীবনের আশায় বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ সেখানে বৈধ ও অবৈধভাবে পাড়ি জমাচ্ছে। তবে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে মার্কিন সরকার বিভিন্ন সময়ে কঠোর নীতি গ্রহণ করলেও সবচেয়ে কঠোর নীতি অনুসরণ করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে (২০১৭-২০২১) অভিবাসন নীতিকে কড়াকড়ির আওতায় আনেন। সদ্য সমাপ্ত মার্কিন নির্বাচনে তিনি আবারও অভিবাসন বিরোধী অবস্থানকে জোরদার করেন এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিশেষ করে অবৈধ বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মার্কিন বাংলাদেশিদের বাস্তবতা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বৈধ অভিবাসী রয়েছেন, যার মধ্যে ৪.৫ লাখ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। এছাড়াও প্রায় ৫.৫ লাখ বাংলাদেশি অবৈধভাবে বসবাস করছেন বলে অনুমান করা হয়। তারা মূলত ডিভি লটারি, পারিবারিক ভিসা, বিনিয়োগ বা শিক্ষাগত কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ফলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতির প্রভাব

অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় ও প্রত্যাবাসনট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতির কারণে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় বৃদ্ধি পেয়েছে। বহু অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশিরাও এই পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন।

নতুন অভিবাসনের সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় বৈধ অভিবাসনের পথ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিবারভিত্তিক অভিবাসন কমিয়ে আনা, শরণার্থী নীতি কঠোর হওয়া এবং ভিসা প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টির ফলে নতুন বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ কমে যেতে পারে।

অভিবাসন কঠোর হওয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ সীমিত হচ্ছে। গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ কঠিন হওয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হচ্ছে।

ট্রাম্পের নীতির ফলে মার্কিন জনগণের একাংশের মধ্যে অভিবাসন-বিরোধী মনোভাব বেড়েছে, যা বাংলাদেশিসহ অন্যান্য অভিবাসীদের জন্য বৈষম্য ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।

ভবিষ্যৎ করণীয়

দক্ষতা উন্নয়ন: যুক্তরাষ্ট্রে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশিদের প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।

আইনি সহায়তা নেওয়া: অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য বাংলাদেশিদের দক্ষ অভিবাসন আইনজীবীদের সহায়তা নিতে হবে।

বিকল্প অভিবাসন গন্তব্য খোঁজা: কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোতে নতুন অভিবাসনের পথ অন্বেষণ করা প্রয়োজন।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই এখনই সময় অভিবাসনের বিকল্প পথ খোঁজা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আইনি সুরক্ষা গ্রহণের দিকে মনোযোগ দেওয়ার।

মাইগ্রেশন কনসার্ন রিপোর্ট  

Logo