Logo
×

Follow Us

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় চালু হচ্ছে নতুন ভিসা, সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরাও

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১:১০

অস্ট্রেলিয়ায় চালু হচ্ছে নতুন ভিসা, সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরাও

অস্ট্রেলিয়ায় চালু হচ্ছে নতুন নিয়মের সাবক্লাস ৪০৭ ট্রেনিং ভিসা, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন বিদেশিরা। আগামী ১২ নভেম্বর থেকে এ ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় নতুন শর্ত কার্যকর হচ্ছে।

প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অনুমোদিত স্পনসর ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশিরাও এ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন জমা দেয়া এবং ভিসা মঞ্জুর দুই সময়েই আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে। ভিসা মঞ্জুরের সময়ও তাকে দেশটির বাইরে অবস্থান করতে হবে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে আবেদন করলে তা বাতিল বলে বিবেচিত হবে। এমনকি অনলাইন আবেদনব্যবস্থা ‘ইমিঅ্যাকাউন্ট’-এর মাধ্যমে আবেদন জমা দেয়ার সুযোগ থাকলেও এ নিয়মের ব্যতিক্রম হবে না।

নতুন বিধান অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত কেউ ৪০৭ ভিসার জন্য আবেদন করতে চাইলে প্রথমে দেশটি ছাড়তে হবে। এরপর বিদেশে অবস্থান করে অনলাইনে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকাকালে অন্য কোনো বৈধ ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করা যাবে। তবে, ওই ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে এবং ৪০৭ ভিসা মঞ্জুরের সময় আবেদনকারীকে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে। বিদেশ থেকে আবেদন করলে এ প্রক্রিয়ায় কোনো অন্তর্বর্তীকালীন ভিসাও দেয়া হবে না।

আগে জমা দেয়া আবেদনের কী হবে?

১২ নভেম্বরের আগে জমা দেয়া বৈধ ট্রেনিং ভিসার আবেদনে নতুন অবস্থানসংক্রান্ত শর্ত প্রযোজ্য হবে না। এসব আবেদন জমা দেয়ার সময় কার্যকর থাকা নিয়ম অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র বিভাগ। তবে শুধু সময়সীমার আগে ফরম জমা দিলেই আবেদন বৈধ হয়ে যায় না। সংশ্লিষ্ট সময়ে প্রযোজ্য স্পনসরশিপ, নমিনেশনসহ অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।

কী ধরনের ভিসা এটি?

সাবক্লাস ৪০৭ মূলত কর্মক্ষেত্রভিত্তিক পেশাগত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের অস্থায়ী ভিসা। নিজের পেশা, উচ্চশিক্ষার বিষয় বা বিশেষজ্ঞ কাজের দক্ষতা বাড়ানো এবং পেশাগত উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে এটি ব্যবহার করা যায়। অনুমোদন পেলে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগ থাকতে পারে।

এই ভিসা নিয়মিত চাকরি করার সাধারণ ভিসা নয়। অস্ট্রেলিয়ার শ্রমিকসংকট পূরণের উদ্দেশ্যেও এটি ব্যবহারের কথা নয় বলে সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

এই ভিসার আওতায় তিন ধরনের প্রশিক্ষণ রয়েছে- পেশাগত নিবন্ধন বা লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, যোগ্য পেশায় দক্ষতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ এবং বিদেশে সক্ষমতা উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ। শেষের ধরনটির মধ্যে নির্দিষ্ট বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়ন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

স্পনসর ও নমিনেশনের অনুমোদন প্রয়োজন

আবেদনকারীর অনুমোদিত স্পনসর থাকতে হবে। সাধারণভাবে স্পনসরকে আবেদনকারীর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য নমিনেশন দিতে হবে এবং ভিসার আবেদন করার আগে সেটির অনুমোদন পেতে হবে। স্পনসর অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ সরকারি সংস্থা হলে পৃথক বিধান প্রযোজ্য।

আবেদনকারীদের স্বাস্থ্য, চরিত্র, প্রযোজ্য স্বাস্থ্যবিমা এবং নিজের ও সাথে থাকা পরিবারের ব্যয় বহনের সামর্থ্যসহ অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ায় থাকা আবেদনকারীদের করণীয়

নতুন নিয়মে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে অবস্থান করে আবেদন করার সুযোগ সীমিত হচ্ছে। দেশটির ভেতরে থাকা আগ্রহীদের বর্তমান ভিসার মেয়াদ, স্পনসরশিপ ও নমিনেশনের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় নথি মিলিয়ে যাত্রার পরিকল্পনা করতে বলেছে স্বরাষ্ট্র বিভাগ।

দেশের বাইরে থেকে জমা দেয়া ট্রেনিং ভিসার আবেদনের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্রিজিং ভিসা পাওয়া যাবে না। অন্য বৈধ ভিসায় আবেদন প্রক্রিয়াকালে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া সম্ভব হলেও সেই ভিসার শর্ত মানতে হবে এবং ট্রেনিং ভিসা মঞ্জুরের সময় বাইরে থাকতে হবে।

সংশোধনীর ব্যাখ্যামূলক বিবৃতিতে মন্ত্রীকে আলাদা বিধান দিয়ে নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীকে অবস্থানসংক্রান্ত শর্তে ব্যতিক্রম দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। তবে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য স্বরাষ্ট্র বিভাগের প্রকাশিত নির্দেশনা হলো ১২ নভেম্বর থেকে আবেদন ও ভিসা মঞ্জুর, উভয় সময়েই অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে।

বাংলাদেশিদের জন্য কী অর্থ বহন করে?

বাংলাদেশ থেকে যোগ্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহীদের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ভিসার শর্ত প্রযোজ্য। শুধু অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থান করলেই ভিসার যোগ্যতা তৈরি হবে না; অনুমোদিত প্রশিক্ষণ, স্পনসর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে।

এই পরিবর্তন নতুন চাকরির ভিসা চালু বা ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা দেয়ার ঘোষণা নয়। এটি বিদ্যমান সাবক্লাস ৪০৭-এর আবেদন ও ভিসা মঞ্জুরের সময় আবেদনকারীর অবস্থানসংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন।

Logo