Logo
×

Follow Us

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন ও বর্ণবাদ বিতর্ক

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন ও বর্ণবাদ বিতর্ক

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ নিয়ে আন্দোলন ও প্রতিবাদ বেড়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ‘মার্চ ফর অস্ট্রেলিয়া’ ছিল অভিবাসনবিরোধী সবচেয়ে বড় সমাবেশগুলোর একটি। এসব আন্দোলনে অনেক সময় অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য বর্ণবাদে রূপ নিচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে। দুই দেশ কোয়াড অংশীদার হিসেবে বাণিজ্য, শিক্ষা ও খেলাধুলায় সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। কিন্তু অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন সেই সম্পর্কের ওপরও ছায়া ফেলছে।

অভিবাসীরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়া পুরোপুরি বর্ণবাদী নয়। তবে কিছু মানুষ ও নীতি বর্ণবাদে ভরপুর। কেউ কেউ মনে করেন, অভিবাসন নিয়ে আলোচনা জরুরি। কারণ বাড়ি, অবকাঠামো, চাকরি ও জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ানদের বাস্তব উদ্বেগ আছে। কিন্তু সমস্যা হয় যখন অভিবাসীদের ওপর সব দায় চাপানো হয়।

ওয়ান নেশন দলের নেতা পলিন হ্যানসন অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যে সবচেয়ে সরব। তিনি বারবার বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া বহুসাংস্কৃতিক নয়, বরং এক সংস্কৃতির দেশ হওয়া উচিত। তার দাবি, অভিবাসীরা বাড়ির সংকট ও অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য দায়ী।

ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। সিডনির আইনজীবী নায়োনিকা ভট্টাচার্য ২০২৫ সালে রাস্তায় হাঁটার সময় বর্ণবাদী গালাগালের শিকার হন। তাকে বলা হয়েছিল “কারি মাঞ্চার” বা “স্মেলি ইন্ডিয়ান”। তিনি বলেন, এখন আর নির্ভয়ে বাইরে বের হওয়া যায় না।

অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষ। ভারতীয়রা গত এক দশকে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। তাই অনেক সময় অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন সরাসরি ভারতীয়দের লক্ষ্য করে। পার্থে বসবাসরত ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর অগি জানিয়েছেন, তিনি মৃত্যুর হুমকি পর্যন্ত পেয়েছেন।

অভিবাসীরা বলছেন, অভিবাসন নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত তথ্য ও নীতির ভিত্তিতে। ফিলিপিনো অভিবাসী জেন ম্যাকাপাগাল বলেন, অভিবাসন জটিল বিষয়। তবে অভিবাসীরা শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবেও অবদান রাখে। তার মতে, অভিবাসীদের দায়িত্ব আছে নতুন দেশে মানিয়ে নেওয়ার। কিন্তু স্থানীয়দেরও দায়িত্ব আছে তাদের স্বাগত জানানোর।

অন্য অভিবাসীরা বলছেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। তবে তা যেন দক্ষতা ও শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। কেউ কেউ মনে করেন, অভিবাসীরা সবসময় পুরোপুরি একীভূত হতে পারে না। আবার কেউ কেউ বলেন, অভিবাসন অস্ট্রেলিয়ার উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে।

Logo