Logo
×

Follow Us

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন বিদেশি শিক্ষার্থী কোর্স নিবন্ধন স্থগিত

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৯:০৩

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন বিদেশি শিক্ষার্থী কোর্স নিবন্ধন স্থগিত

অস্ট্রেলিয়া সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী খাতে কঠোরতা বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির লেবার সরকার ঘোষণা করেছে, আগামী এক বছরের জন্য নতুন কোনো বেসরকারি কলেজ বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কোর্স চালুর অনুমোদন পাবে না। ২০২৬ সালের ১৯ মে থেকে কার্যকর হওয়া এই স্থগিতাদেশ চলবে ২০২৭ সালের ১৯ মে পর্যন্ত।

শিক্ষাবিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন দ্য পাই নেটওয়ার্কের এক প্রতিবেদন বলছে, অস্ট্রেলিয়ান স্কিলস কোয়ালিটি অথরিটি (ASQA)-তে নতুন আবেদন স্থগিত থাকবে বিশেষ করে ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (VET) এবং ইংরেজি ভাষা কোর্স (ELICOS) খাতে। নতুন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কোর্স চালুর অনুমতি পাবে না। তবে সরকারি স্কুল, টিএফই এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে।

সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী খাতে অনিয়ম ও ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের শিক্ষা আইন সংশোধনের মাধ্যমে সরকারকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়। নিক্সন রিভিউ এবং ২০২৩ সালের মাইগ্রেশন রিভিউতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থায় নানা দুর্বলতা রয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কোর্স চালু করছে।

যেসব আবেদন ২০২৬ সালের ১৯ মের আগে জমা পড়েছে, সেগুলো বিদ্যমান নিয়মে প্রক্রিয়াকৃত হবে। এছাড়া অনুমোদিত কোর্সের নতুন লোকেশন যোগ করা যাবে এবং পুরোনো প্রোগ্রাম বদলে নতুন প্রোগ্রাম চালু করা যাবে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেছেন, “বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিইটি বা ইংরেজি ভাষা কোর্স নিবন্ধন স্থগিত করা সহজ সিদ্ধান্ত নয়। তবে এটি প্রয়োজনীয়, কারণ নতুন বাজারে প্রবেশকারীদের মান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং খাতটি অতিরিক্ত ভিড়ে আক্রান্ত।” তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থী সংখ্যা কমলেও নতুন প্রতিষ্ঠান খোলার প্রবণতা সন্দেহজনক।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। লেক্সিস ইংলিশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ান প্র্যাট বলেছেন, “মানসম্মত স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যার কারণ নয়। বরং সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও মান যাচাই করলেই খাতের সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করা সম্ভব।”

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে নেপালের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ছিল ৬৯ শতাংশ এবং ভারতের ক্ষেত্রে ৪২ শতাংশ। একই সময়ে অভিবাসন ও আবাসন সংকট নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। সর্বশেষ বাজেটে দেখা গেছে, নেট অভিবাসন প্রত্যাশার তুলনায় ধীরে কমছে।

Logo