নিউজিল্যান্ডের নতুন গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি প্রথম বছরেই প্রায় ৪ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। সরকার জানিয়েছে, অ্যাকটিভ ইনভেস্টর প্লাস (AIP) ভিসার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১.৪৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে এবং আরো ২.৪১৫ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, অ্যাকটিভ ইনভেস্টর প্লাস (AIP) ভিসা ধনী বিদেশিদের নিউজিল্যান্ডে রেসিডেন্সি পাওয়ার সুযোগ দেয়। শর্ত হলো, তারা দেশটির ব্যবসা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিমুখী খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করবেন। ভিসাধারী ও তাদের পরিবার নিউজিল্যান্ডে বসবাস, কাজ, পড়াশোনা ও ভ্রমণের পূর্ণ অধিকার পান। এ ভিসা সঙ্গী বা জীবনসঙ্গী এবং ২৪ বছরের নিচে নির্ভরশীল সন্তানদেরও অন্তর্ভুক্ত করে।
ভিসায় দুটি প্রধান বিনিয়োগ ক্যাটাগরি রয়েছে
গ্রোথ ক্যাটাগরি: এখানে ৩ বছরে কমপক্ষে ৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হয়। বিনিয়োগ হয় সরাসরি নিউজিল্যান্ড কোম্পানি বা ম্যানেজড ফান্ডে।
ব্যালান্সড ক্যাটাগরি: এখানে ৫ বছরে ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হয়। এটি তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিভিন্ন সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়।
২০২৫ সালের এপ্রিলে ভিসার নিয়ম সহজ করা হয়। ইংরেজি ভাষার শর্ত বাদ দেওয়া হয়েছে এবং দেশে থাকার সময়ও কমানো হয়েছে। এর ফলে ভিসাটি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
ইমিগ্রেশন মন্ত্রী এরিকা স্ট্যানফোর্ড বলেন, প্রাইভেট ক্রেডিট বিনিয়োগ এখন কর্মসূচির বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। এতে ব্যবসাগুলো মালিকানা কমানো ছাড়াই অর্থায়ন পাচ্ছে। তিনি উদাহরণ দেন ডানেডিনভিত্তিক কোম্পানি ইউনাইটেড মেশিনিস্টস, যারা এয়ারোস্পেস ও মেডিকেল প্রযুক্তি খাতে বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ তৈরি করে। এআইপি ভিসার বিনিয়োগে তারা সম্প্রসারণ ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পেরেছে।
সরকার জানিয়েছে, কর্মসূচি চালুর পর থেকে ৬০০-এর বেশি আবেদন এসেছে, যা প্রায় ২ হাজার মানুষকে কভার করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে। এরপর রয়েছে হংকং, জার্মানি ও তাইওয়ান। ভারত থেকে দুটি আবেদন এসেছে, যা পাঁচজনকে অন্তর্ভুক্ত করে।
নিউজিল্যান্ডের গোল্ডেন ভিসা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের অনুরূপ কর্মসূচির সঙ্গে তুলনীয়। পর্তুগাল, গ্রিস, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরও এ ধরনের ভিসা চালু করেছে। তবে অনেক দেশ সাম্প্রতিক সময়ে কর্মসূচি কঠোর বা বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ এগুলো সম্পত্তির দাম বাড়ায়, ধনীদের সুবিধা দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে সীমিত প্রভাব ফেলে।
logo-1-1740906910.png)