নিউজিল্যান্ড হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের কৌশল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০১
অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি পাওয়ার জন্য নিউজিল্যান্ড হয়ে আসা এখন অনেক অভিবাসীর কাছে কার্যকর কৌশল হয়ে উঠছে। দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউজিল্যান্ডে প্রবেশের তুলনামূলক সহজ নিয়ম এবং সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সুযোগ অনেক বিদেশি নাগরিককে আকৃষ্ট করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অভিবাসীরা এই পথকে ব্যবহার করছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিউজিল্যান্ডে প্রবেশের ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। অনেকেই প্রথমে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নেন। এরপর তারা ট্রান্স-তাসমান চুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করেন। এই চুক্তি অনুযায়ী নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে কাজ করতে পারেন। ফলে যারা নিউজিল্যান্ডে নাগরিকত্ব পান, তাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির দরজা খুলে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি থাকায় এই প্রবণতা আরো বাড়ছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃষি খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেশি। নিউজিল্যান্ড হয়ে আসা অভিবাসীরা এই খাতগুলোতে দ্রুত চাকরি পাচ্ছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক অভিবাসী নিউজিল্যান্ডকে “স্টেপিং স্টোন” বা সেতুবন্ধন হিসেবে দেখছেন।
তবে এই প্রবণতা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, নিউজিল্যান্ডকে ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করা মূলত ভিসা নীতির ফাঁকফোকর কাজে লাগানো। এতে নিউজিল্যান্ডের নিজস্ব শ্রমবাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে। কারণ অনেক অভিবাসী সেখানে স্থায়ীভাবে থাকতে চান না, বরং অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পেলেই চলে যান।
অন্যদিকে অভিবাসীরা বলছেন, তারা বৈধভাবে সুযোগ নিচ্ছেন। নিউজিল্যান্ডে বসবাস ও কাজ করার পর নাগরিকত্ব অর্জন করা তাদের অধিকার। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে কাজ করাও বৈধ। তারা মনে করেন, এই পথ তাদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দক্ষ জনশক্তি আনার জন্য উভয় দেশকেই সমন্বিত নীতি গ্রহণ করতে হবে। শুধু ভিসা নীতির ফাঁকফোকর নয়, বরং অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নিউজিল্যান্ডে অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে দেশটির আবাসন ও সামাজিক সেবায় চাপ তৈরি হচ্ছে। অনেক অভিবাসী সেখানে অস্থায়ীভাবে থাকেন, কিন্তু নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। এতে নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারও বিষয়টি নিয়ে সচেতন। তারা দক্ষ জনশক্তি আনার জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করছে। তবে নিউজিল্যান্ড হয়ে আসা অভিবাসীদের প্রবণতা থামানো কঠিন হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কারণ ট্রান্স-তাসমান চুক্তি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর রয়েছে।
সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ড হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি পাওয়ার প্রবণতা এখন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিবাসীরা এটিকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আর নীতিনির্ধারকরা এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
logo-1-1740906910.png)