অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের এক মাস
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৭
অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ হওয়ার এক মাস পার হয়েছে। সরকার বলছে, অনলাইন আসক্তি, সাইবার বুলিং এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে শিশুদের রক্ষা করতেই এই আইন চালু করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এর প্রভাব নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাওয়া যাচ্ছে। বিবিসি এ নিয়ে প্রকাশ করেছে বিশেষ প্রতিবেদন।
১৪ বছর বয়সী অ্যামি জানাচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার পর তার জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে স্বাভাবিকভাবে স্ন্যাপচ্যাট খুলত। কিন্তু এখন আর সেই অভ্যাস নেই। প্রথম সপ্তাহে কিছুটা কষ্ট হলেও কয়েক দিনের মধ্যে সে বুঝতে পারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়া জীবন আরো স্বস্তিদায়ক। অ্যামি বলছে, “আগে স্ন্যাপচ্যাট খুললেই ইনস্টাগ্রাম আর টিকটকে চলে যেতাম। এখন ফোন হাতে নিই শুধু প্রয়োজন হলে।”
অন্যদিকে ১৩ বছর বয়সী আহিলের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। সে এখনো ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট ও গেমিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে ভুয়া জন্মতারিখ দিয়ে। তার দৈনিক ব্যবহার সময়ও আগের মতোই রয়েছে। আহিলের মা জানিয়েছেন, ছেলের মেজাজ আগের চেয়ে খিটখিটে হয়েছে এবং সে এখন বেশি সময় ভিডিও গেম খেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক কিশোরের জন্য শুধু বিনোদন নয়, বরং মানসিক চাপ ও একাকিত্ব কাটানোর উপায়। তাই হঠাৎ নিষেধাজ্ঞায় অনেকের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
১৫ বছর বয়সী লুলু জানাচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার পর সে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছে। তবে কিছুটা পড়াশোনায় মনোযোগ বেড়েছে। লুলু, অ্যামি ও আহিল তিনজনই এখন বেশি ব্যবহার করছে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার, যেগুলো নিষিদ্ধ হয়নি। ফলে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে তারা এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে ঝুঁকছে।
নিষেধাজ্ঞার আগে অনেক কিশোর বিকল্প অ্যাপ যেমন লেমন৮, ইয়োপে ও কভারস্টার ডাউনলোড করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব অ্যাপের ব্যবহার কমে গেছে। একইভাবে ভিপিএন ব্যবহার করে আইন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ নতুন অ্যাকাউন্ট খুললেও আগের সংযোগ ও কনটেন্ট হারিয়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ আশা করেছিলেন, নিষেধাজ্ঞার ফলে কিশোররা খেলাধুলা, বই পড়া ও সৃজনশীল কাজে বেশি সময় দেবে। বাস্তবে কিছু কিশোরের ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা গেলেও অনেকেই আগের মতোই অনলাইনে সময় কাটাচ্ছে। তবে অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ সন্তানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কমে যাওয়ায় খুশি, আবার কেউ বলছেন, এতে তাদের সন্তান বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যায় পড়ছে।
অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার শিগগিরই নিষেধাজ্ঞার ফলাফল প্রকাশ করবে। কতগুলো অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছে এবং শিশুদের আচরণে কী পরিবর্তন এসেছে তা জানানো হবে। যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস জানিয়েছেন, এই আইন ইতোমধ্যেই বাস্তব পরিবর্তন আনছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশও অস্ট্রেলিয়ার মডেল অনুসরণ করতে আগ্রহী।
logo-1-1740906910.png)