নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনা: ২০২৬ সালে শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্ট চয়েস
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৪
বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের কাছে নিউজিল্যান্ড এখন আর ‘ব্যাকআপ অপশন’ নয়, বরং প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে। দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নিরাপদ পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা, সাশ্রয়ী টিউশন ফি এবং সম্প্রসারিত কাজের সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য এটিকে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।
নিউজিল্যান্ডে আটটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় এখানে টিউশন ফি তুলনামূলকভাবে কম। স্নাতক পর্যায়ে বার্ষিক খরচ প্রায় ২২ হাজার ৩২ হাজার ডলার, আর স্নাতকোত্তরে ২৬ হাজার ৩৭ হাজার ডলার। এই খরচ অনেক শিক্ষার্থীর জন্য সহজলভ্য, বিশেষ করে যারা সীমিত বাজেটে বিদেশে পড়াশোনা করতে চান।
নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার খরচ ভিন্ন
- অকল্যান্ড: সবচেয়ে বড় শহর, মাসিক ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ডলার।
- ওয়েলিংটন: রাজধানী ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ, মাসিক ব্যয় ১,২০০ থেকে ১,৮০০ ডলার ।
- ক্রাইস্টচার্চ ও ডানেডিন: তুলনামূলক সাশ্রয়ী, মাসিক ব্যয় ১ হাজার থেকে ১,৫০০ ডলার।
এই ভিন্নতা শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে, তারা নিজেদের বাজেট অনুযায়ী শহর বেছে নিতে পারেন।
নিউজিল্যান্ড সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাজের সময়সীমা বাড়িয়েছে। এখন শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২৫ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন, আর ছুটির সময়ে ফুল-টাইম কাজের সুযোগ রয়েছে। মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের সময়সীমা সীমাহীন। পড়াশোনা শেষে পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার মাধ্যমে চাকরির সুযোগও পাওয়া যায়। এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি আয়ের সুযোগ পান এবং ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার গড়ার পথও সুগম হয়।
নিউজিল্যান্ডের জনসংখ্যা মাত্র ৫.৩ মিলিয়ন। ছোট ও নিরাপদ দেশ হিসেবে এটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্ন শহর এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রাকে সহজ করে তোলে। একই সঙ্গে রাগবি সংস্কৃতি ও স্থানীয় ঐতিহ্য শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
শিক্ষার্থীদের আগমন নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। টিউশন ফি, আবাসন, খাদ্য ও পরিবহন খাতে আয় বাড়ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আরো বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করবে।
logo-1-1740906910.png)