বন্ডাই বিচ হামলার জেরে বিশ্বজুড়ে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের দাবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪০
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বিখ্যাত বন্ডাই বিচে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্দুক হামলার পর দেশটির অভিবাসন নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আলোচনায় নতুন মাত্রা এসেছে। হানুক্কা উৎসবে ভয়াবহ গুলিতে অন্তত ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটিতে নিরাপত্তা, অপরাধ ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই হামলার ঘটনায় বাবা ও ছেলের একটি জুটি যুক্ত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে এবং এটি পরিকল্পিত ইহুদিবিরোধী হামলা হিসেবে তদন্ত হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গোলযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ও আইনপ্রণেতা অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিকে কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ, টমি টাবারভিল ও বিল ক্যাসিডি পাশাপাশি প্রতিনিধি র্যান্ডি ফাইন ভয়াবহ ঘটনার পর কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে কথা বলছেন। তারা মাইগ্রেশন কমিয়ে আনতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বেশি যাচাই‑বাছাই এবং নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছেন।
কিছু সিনেটর এমনকি ভিসা ও নাগরিকত্ব নিয়ম কঠোর করার পক্ষে মন্তব্য করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিদেশি মুসলিমদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর নিষ্কাশনের মতো মন্তব্যও করেছেন, যা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। ডেমোক্র্যাট ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই মন্তব্যগুলোকে “ইসলামোফোবিক” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে এবং তারা এমন সাধারণীকৃত সমালোচনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরেও আমরা আবলম্বনশীল প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করছি। দেশটির বিরোধী দল সংবাদে জানিয়েছে, বন্ডাই বিচ হামলার পর তারা তাদের বিতর্কিত অভিবাসন নীতি স্থগিত রেখে এন্টারসিটিজম ও সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে অভিবাসন নীতির পরিবর্তে তীব্র সহিংসতা ও ঘৃণা উস্কে দেওয়া প্রতিরোধে মনোযোগ দেওয়া হবে।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক ছাড়াও বন্ডাই বিচ হামলার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ আন্তর্জাতিক চাপ অনুভব করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দেশটিতে ইহুদিবিদ্বেষ ও সহিংসতা প্রতিরোধে নীতি পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন, একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মনোযোগ বৃদ্ধির মতো সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে অভিবাসন ও নিরাপত্তা নীতি কেন্দ্রীয় জায়গায় ফেরা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। যে হামলায় এমনটি স্পষ্ট যে আধুনিক সমাজে নিরাপত্তা ও সহনশীলতার সমন্বয় বজায় রাখা কতটা কঠিন, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। এখন বন্ডাই বিচ হামলার প্রভাব আগামী অভিবাসন ও নিরাপত্তা নীতিতে কীভাবে প্রতিফলিত হয়, তা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পর্যায়ে নজরকাড়া বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
logo-1-1740906910.png)