Logo
×

Follow Us

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৯

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

সিডনির বন্ডাই বিচে ইহুদিদের হনুক্কা উৎসবে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত ও আরো বহু আহত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ হামলাকারীদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক সাজিদ আকরাম ও অপরজন তার ছেলে নাভিদেরকেও সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে, যারা ঘটনার সময় দেশীয় পরিচয়ের পাশাপাশি বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিল বলে খবরে এসেছে। 

অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম সিএসবি নিউজ বলছে, এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দল তাদের বিতর্কিত অভিবাসন নীতি প্রকাশ স্থগিত করেছে। দলটি মূলত আগে জানিয়েছিল যে অভিবাসনের বর্তমান মাত্রা খুবই বেশি এবং তা সামাজিক সংগঠনে চাপ সৃষ্টি করছে। হামলার সংবেদনশীল সময়েই এই নীতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে তা সমাজে বিভাজন তৈরি করবে এমন আশঙ্কায় নীতি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিপরীতে তারা একটি অ্যান্টিসেমিটিজম ও সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্স গঠনের ওপর জোর দিচ্ছে। 

তবে বিরোধী দলের ভিন্নমতও স্পষ্ট হচ্ছে। কিছু কনজারভেটিভ এমপি হামলার পর সরাসরি অভিবাসন নীতিতে কঠোর পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার এমপি অ্যান্ড্রু হ্যাস্টি বলেছেন, হামলার ঘটনায় “অস্ট্রেলিয়ার মূল্যবোধ” বজায় রাখতে অভিবাসন নীতি নিয়ে পুনর্বিবেচনা হওয়া উচিত এবং অভিবাসীদের কাছে ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক নীতিগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যোগ্যতা থাকা জরুরি। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম নিউজ ডট কম।

এছাড়া পলিন হ্যানসন নামে একজন সিনেটরও বন্ডাই বিচের হামলার প্রেক্ষাপটে “ভরাট অভিবাসন” ও “ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পরিচয়” হারানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, ভবিষ্যতে আরো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে, যদি প্রচলিত অভিবাসন নীতি অব্যাহত থাকে। 

হামলাকারীদের পেছনে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) দ্বারা অনুপ্রেরিত থাকার শঙ্কা পুলিশ জানিয়েছে এবং এটি একটি নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। 

দ্য অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকা বলছে, এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে কঠোরতার দাবি জানিয়েছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে মুসলিমদের উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর নিষ্কাশনের মতো মন্তব্যও করেছেন, যা ব্যাপক সমালোচনার বিষয় হয়েছে। 

দ্য অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকার সংবাদে আরো উঠে এসেছে, এই ধরনের মন্তব্যকে ডেমোক্র্যাট ও মানবাধিকার গোষ্ঠীরা “ইসলামোফোবিক” বলে সমালোচনা করেছে এবং সামাজিক বিভাজন কমিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আলোকপাতের আহ্বান জানিয়েছেন। 

দ্য গার্ডিয়ার পত্রিকা বলছে, হামলার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য রাজনীতিবিদ নিরাপত্তা ও সহনশীলতা নিয়ে আলোচনায় মনোযোগ দিয়েছেন। তারা জনগণকে একত্রিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নির্বাচনের আগে অভিবাসন, নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির মতো ইস্যুতে সর্বদা সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন। 

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি এখনই স্থির নয়; হামলার জেরে রাজনৈতিক দলগুলো নীতি পুনর্বিবেচনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও সামাজিক সমন্বয়য়ের মাঝে জটিল সমন্বয় খুঁজছে। অভিবাসী মুসলিম সম্প্রদায়ের মন্তব্য ও তাদের অবস্থান নিয়ে বিতর্কের কারণে এই ইস্যুটি দেশটিতে কেবল নিরাপত্তা নয়, সামাজিক সহাবস্থানের গভীর গতিশীলতা সৃষ্টি করেছে।

Logo