নিউজিল্যান্ড ছাড়ছে স্থানীয়রা; বাধ্য হয়ে ভিসা নিয়ম শিথিল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ১০:০৯
নিউজিল্যান্ডে নাগরিকদের দেশত্যাগের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি ছেড়েছেন ৭৩ হাজার ৪০০ নিউজিল্যান্ড সিটিজেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার রেসিডেন্সি নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে দুটি নতুন রেসিডেন্সি পথ, যা বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য দেশটিতে বসবাস ও কাজের সুযোগ সহজ করবে।
অর্থমন্ত্রী নিকোলা উইলিস জানান, স্থানীয় শ্রমবাজারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় না, যা বিদেশি কর্মীদের মধ্যে রয়েছে। অথচ এতদিন তাদের জন্য রেসিডেন্সি পাওয়া কঠিন ছিল। নতুন নীতির মাধ্যমে সেই বাধা দূর হবে।
দুটি নতুন রেসিডেন্সি পথ
১. অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের জন্য, যারা নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা ও বেতন সীমায় কাজ করবেন।
২. শিল্প ও প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের জন্য, যাদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও মজুরি সীমা পূরণ রয়েছে।
ইমিগ্রেশন মন্ত্রী এরিকা স্ট্যানফোর্ড বলেন, “যেসব দক্ষ কর্মী ইতোমধ্যে নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, তাদের ধরে রাখতে এই উদ্যোগ কার্যকর হবে।”
সরকার জানুয়ারিতে ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা সহজ করেছে, যা দূর থেকে কাজ করা ব্যক্তি ও ভ্রমণকারীদের জন্য। ফেব্রুয়ারিতে অ্যাকটিভ ইনভেস্টর প্লাস বা গোল্ডেন ভিসার শর্তও শিথিল করা হয়েছে, যা ধনী বিদেশিদের রেসিডেন্সি পাওয়ার পথ খুলে দেয়।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘বিজনেস নিউজিল্যান্ড’ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, নতুন রেসিডেন্সি পথ কর্মীদের ধরে রাখতে সহায়ক হবে। তবে সরকারের কোয়ালিশন পার্টনার নিউ নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট সমর্থন না দিয়ে ‘এগ্রি টু ডিজএগ্রি’ নীতি গ্রহণ করেছে।
পার্টির নেতা উইনস্টন পিটার্স অভিযোগ করেন, “নিউজিল্যান্ডকে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা প্রশিক্ষণ দিই, পরিবার দেখভাল করি, তারপর তারা চলে যায়।” তিনি স্মার্ট ইমিগ্রেশন সিস্টেমের দাবি জানান, যা স্থানীয় কর্মী ও শিল্পের চাহিদা পূরণ করবে।
২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ড থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া অভিবাসীদের ৩৫ শতাংশ নিউজিল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেননি। এই প্রবণতা দেশটির অভ্যন্তরীণ কর্মশক্তি ও অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন রেসিডেন্সি নীতিমালা অভিবাসন ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনবে বলে আশা করছে সরকার। তবে এর বাস্তব প্রয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে চলছে আলোচনা।
তথ্যসূত্র: দৈনিক বণিক বার্তা
logo-1-1740906910.png)