চীনে নতুন এই ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধির খবর আসছে বিশ্বের গণমাধ্যমে।
কোভিডের স্মৃতি কাটতে না কাটতেই আরেকটি কোভিডরূপি নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত হবার খবর মিলছে। চীনে নতুন এই ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধির খবর আসছে বিশ্বের গণমাধ্যমে। যাতে ভয় ধরাচ্ছে মানুষের মনে।
ভাইরাসটির নাম হেইচএম পি ভি। মানে হিউম্যান ম্যাটানিউমো ভাইরাস। কোভিড ভাইরাসের মতো এটিও আরএনএ ভাইরাস। কোভিডের মতো এর উপস্বর্গেও মিল আছে।
চীনের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চাইনিজ সেন্টার ফর ডিজিজ কনন্ট্রোল এ্যান্ড প্রিভেনশন জানাচ্ছে, হাঁচি কাশির মাধ্যমেই এই রোগ ছড়ায়। রোগীর নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ থাকাও এর লক্ষণের মধ্যে পড়ে।
রোগীর ব্যবহার করা জিনিস থেকে এই রোগ ছড়ায়। শরীরে তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত ভাইরাসটি টিকে থাকে। সারা বছর দেখা মিললেও, শীতে ও বসন্তে এই ভাইরাসের প্রকোপ ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে যায়। এই ভাইরাসের আক্রান্ত হলে, খুব খারাপ ক্ষেত্রে, রোগীর নিউমোনিয়া বা ব্রংকাইটিস হবার সম্ভাবনা থেকে যায়। লাংসে পানি জমার ঘটনাও ঘটেছে এক্ষেত্রে।
বিশেষত শিশুরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয় বেশি, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার খুব কম, মাত্র এক শতাংশ। তবে, অসুস্থ রোগী বা বৃদ্ধদের বেলায়, এই ভাইরাস প্রাণঘাতি হতে পারে বলে আশংকা গবেষকদের।
এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক না থাকায়, ভীতি বাড়ছে।
চীনের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এই ভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে, ২০০১ সালে। ডাচ গবেষকরা শিশুদের সংক্রামক রোগের ঘটনায়, তা সনাক্ত করেছিলেন।
চীনের নানান প্রান্তে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর মিলছে। হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত ভীড়, আরো বেশি সংখ্যক মানুষ মাস্ক পরে, চলাফেরা করবার কারণে, নতুন এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছেন বিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
যদিও, চীনের স্বাস্থ্য দপ্তর এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাস নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন বিবৃতি বা সতর্কতা রাজি করেনি ।
চীনের সরকার নাগরিকদের আবারো মাস্ক পড়তে বলছে এবং ঘনঘন হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা আর ভীড় এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।
চীনে সাধারণ শীত ও বসন্তে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রার্দুভাব দেখা যায়, তবে রয়টার্সের খবর বলছে, গেল ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে, ১৪ বছরের নিচে শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা এমনকি নতুন ভাইরাস হেইচ এম পি ভি জনিত রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে।
logo-1-1740906910.png)