Logo
×

Follow Us

এশিয়া

মালয়েশিয়ার চিকিৎসা পর্যটনে নতুন গতি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫০

মালয়েশিয়ার চিকিৎসা পর্যটনে নতুন গতি

বেসরকারি চিকিৎসা সেবা খাতের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া দ্রুত ও পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সংগঠন 'অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট হসপিটালস মালয়েশিয়া' (এপিএইচএম) মনে করছে, এই ডিজিটালাইজেশন নীতি মালয়েশিয়ার বিকাশমান চিকিৎসা পর্যটন খাতকে বিপুল গতি দেবে। আগামী বছর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাওয়া ‘ই-সিকেএপিএস’ (e-CKAPS) অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সিং কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

নতুন এই আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে লাইসেন্স অনুমোদনের প্রক্রিয়াকরণ সময় প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে। এপিএইচএমের মতে, এই রূপান্তরের ফলে নতুন হাসপাতাল ও বিশেষায়িত ক্লিনিক চালুর প্রশাসনিক বিলম্ব অনেকটাই কেটে যাবে। স্বাস্থ্য অবকাঠামোর বিস্তার সহজ হওয়ায় বিদেশি রোগী ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সক্ষমতা দেশটির বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। সম্প্রতি প্রকাশ করা ২০২৭ সালের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এপিএইচএমের সভাপতি দাতুক ড. কুলজিৎ সিং এক বিবৃতিতে জানান, দ্রুত লাইসেন্স প্রদান ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা খাতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছে সরকার। এর ফলে সাধারণ ও আন্তর্জাতিক রোগীদের দীর্ঘ অনুসন্ধানী অপেক্ষার অবসান ঘটবে। সরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর থেকে রোগীদের বাড়তি চাপ কমাতে বেসরকারি হাসপাতালে সেবা স্থানান্তরে (আউটসোর্সিং) বরাদ্দ বাড়িয়ে ২০ কোটি রিঙ্গিত করা হয়েছে। এটি রোগীদের সঠিক সময়ে মানসম্পন্ন চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

একই সাথে বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সরকারি সেবায় যুক্ত করার নিয়ম আরো শিথিল ও দীর্ঘমেয়াদি করা হয়েছে। ড. কুলজিৎ সিং উল্লেখ করেন, বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সক্ষমতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের স্বাস্থ্য সেবার সামগ্রিক মানবসম্পদ কাঠামো উন্নত হবে। চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে সংগঠনটি। নতুন বাজেটে রোগীদের বিলিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে তা সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ ও আস্থাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম দেশের ২০২৭ সালের জাতীয় বাজেট উত্থাপনের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বরাদ্দের একটি চিত্র তুলে ধরেন। নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ আগের চার হাজার ৬৫০ কোটি রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে চার হাজার ৭৭০ কোটি রিঙ্গিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এপিএইচএম সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেবল বাজেটের আকারের চেয়ে রোগীদের চিকিৎসার ওপর এই নতুন বরাদ্দের প্রকৃত ইতিবাচক প্রভাব কতটা পড়ছে, সেটাই হবে চূড়ান্ত সাফল্য।

অন্যদিকে মালয়েশিয়ার চিকিৎসা খাতের দীর্ঘদিনের বহুল আলোচিত চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক বা 'কনট্রাক্ট ডক্টর' সংকটের স্থায়ী সমাধান মিলতে যাচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৫ হাজারেরও বেশি চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসককে স্থায়ী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কেবল চলতি বছরেই চার হাজার চিকিৎসককে স্থায়ী করা হয়েছে। আগামী বছর আরো ৯ হাজারের বেশি চিকিৎসককে সরাসরি স্থায়ী চাকরির অফার দেওয়া হবে। 

Logo