Logo
×

Follow Us

এশিয়া

নৈনিতাল ভ্রমণ: পাহাড়, সাহিত্য আর আধ্যাত্মিকতার টানে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১১

নৈনিতাল ভ্রমণ: পাহাড়, সাহিত্য আর আধ্যাত্মিকতার টানে

নৈনিতাল ভ্রমণ মানেই এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পাহাড়ি প্রকৃতি, সাহিত্যিক স্মৃতি আর আধ্যাত্মিকতার মিশেলে এই সফর হয়ে ওঠে কবিতার মতো। নৈনিতাল থেকে এক ঘণ্টার পথেই রামগড়। ছোট্ট এই পাহাড়ি শহর যেন সাহিত্যিকদের আশ্রয়স্থল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে কাটিয়েছেন ছয় বছর। এখানেই তিনি লিখেছিলেন গীতাঞ্জলি, যা তাকে এনে দেয় সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। তার পুরনো বাড়ির ভগ্নাবশেষ আজও পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে, যেন ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। ভ্রমণকারীরা সেখানে গিয়ে সাহিত্যিক আবহ অনুভব করেন।

১৯৩৭ সালে হিন্দি কবি মহাদেবী বর্মা এখানে গড়ে তুলেছিলেন তার গ্রীষ্মকালীন বাড়ি মীরা কুটির। এখন সেটি স্মৃতিসৌধ ও গ্রন্থাগার। পাহাড়ি নীরবতায় তার সাহিত্য যেন আজও প্রতিধ্বনিত হয়।

রামগড়ের পথে খুরপাতাল হ্রদে থামা যায়। সূর্যের আলোয় হ্রদের রং বদলায়— কখনো সবুজ, কখনো নীল, আবার কখনো রূপালি। পাহাড়ি বাতাসে যেন হ্রদও কবিতার মতো রং ছড়ায়।

থাকার জন্য নৈনিতাল ও রামগড়ে রয়েছে নানা রিসোর্ট ও হোটেল। আমরায়া নামের এক বুটিক রিসোর্টে চোখে পড়ে হিমালয়ের মহিমা। নন্দা দেবী, ত্রিশূল, মৃগথুনি, নন্দা কোট; সবগুলো শৃঙ্গ যেন আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর খাবারের জন্য কুমাওনি থালি একেবারেই বিশেষ। ভাট কি চুরকানি, কপ্পা, আলু গুটুক, পাহাড়ি চিকেন, মাড়ুয়ার রুটি, লাল চাল আর কুমাওনি রায়তা; সব মিলিয়ে এক পাহাড়ি স্বাদ।

পরদিন সকালে হাঁটতে যাওয়া যায় ঝান্ডিধার পর্যন্ত। গাগর মহাদেব মন্দির থেকে শুরু হয়ে পথ চলে যায় গারগেশ্বর মহাদেব হয়ে ঝান্ডিধার মন্দিরে। একদিকে বরফঢাকা হিমালয়, অন্যদিকে নৈনিতালের উঁচু পাহাড়। পথে দেখা মিলতে পারে বাঘের পায়ের ছাপও। সন্ধ্যায় কুলেঠি গ্রাম পেরিয়ে পৌঁছানো যায় সানসেট পয়েন্টে। পাহাড়গুলো তখন সোনালি আলোয় ভেসে যায়।

ফিরে আসার পথে থামা যায় কেঁচি ধামে। এখানেই আধ্যাত্মিক গুরু নীম করোলি বাবার আশ্রম। ১৯৭৪ সালে তরুণ বয়সে স্টিভ জবস এখানে এসেছিলেন। পরে তার অনুপ্রেরণায় জন্ম নেয় অ্যাপল। মার্ক জাকারবার্গও এসেছিলেন এখানে, পেয়েছিলেন নতুন দিশা। এমনকি বিরাট কোহলিও আনুশকা শর্মাকে নিয়ে এখানে এসেছিলেন, ভাগ্য ঘুরেছিল তারও।

কলকাতা থেকে নৈনিতাল যেতে চাইলে প্রথমে ট্রেনে বা বিমানে দিল্লি পৌঁছাতে হয়। দিল্লি থেকে নৈনিতালের দূরত্ব প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। ট্রেনে কাঠগোদাম পর্যন্ত যাওয়া যায়, সেখান থেকে গাড়িতে নৈনিতাল। বাস বা প্রাইভেট গাড়িতেও যাওয়া সম্ভব। কলকাতা থেকে সরাসরি বিমানে দিল্লি গিয়ে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করলে সবচেয়ে সুবিধাজনক হয়।

Logo