Logo
×

Follow Us

এশিয়া

জাপানে কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি, অনিশ্চয়তায় বিদেশি কর্মীরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:২১

জাপানে কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি, অনিশ্চয়তায় বিদেশি কর্মীরা

প্রায় আট বছর আগে কাজের জন্য জাপানে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী আব্দুল। এখন তিনি টোকিওতে স্ত্রীসহ থাকেন। জাপানি জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠলেও নতুন অভিবাসন নীতি তাকে ভাবাচ্ছে। স্থায়ী বসবাস ও নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন তিনি। কিন্তু শর্ত কঠিন হওয়ায় আবেদন বাতিল হলে দেশ ছাড়তে হতে পারে— এমন আশঙ্কা করছেন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় জাপানের গড় আয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে। সঙ্গে থাকতে হবে জাপানি ভাষাজ্ঞান এবং ৩০ বছরের সমপরিমাণ পেনশন সঞ্চয়। জাপানের অভিবাসন দপ্তর বলছে, বিদেশিদের স্বাধীনভাবে ও স্থিতিশীলভাবে জীবনযাপন করতে হবে, যাতে তারা রাষ্ট্রের ওপর বোঝা না হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নেলকিনও একই সংকটে পড়েছেন। তিনি বিনোদন শিল্পে কাজ করেন এবং স্থায়ী বসবাসের আবেদন করেছেন। কিন্তু আবেদন বাতিল হলে নাগরিকত্ব নিতে হবে, আর তাতে ছাড়তে হবে মার্কিন পাসপোর্ট। তিনি বলেন, “আমি পুরো প্রাপ্তবয়স্ক জীবন জাপানে কাটিয়েছি। কিন্তু মায়ের কাছে যেতে চাইলে আমেরিকান নাগরিকত্ব রাখা জরুরি।”

অর্থনীতিবিদ রিসা হাগিওয়ারা মনে করেন, জাপানের নীতি এখন “নির্বাচনভিত্তিক ও শর্তসাপেক্ষ” হয়ে উঠছে। অথচ জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় শ্রমঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন। শর্ত কঠিন হলে বিদেশিদের কাছে জাপান আকর্ষণ হারাতে পারে।

সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের শেষে জাপানে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪.১২ মিলিয়ন, যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ শতাংশ। তবে অনুমান করা হচ্ছে, ২০৭০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে জাপানি নাগরিকের সংখ্যা এক বছরে কমেছে ৯ লাখের বেশি।

জাপানের রাজনীতিতে ডানপন্থি প্রভাব বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে গ্রহণের নীতি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তার দল জাপান ইনোভেশন পার্টির সঙ্গে চুক্তিতে বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে “জাপান ফার্স্ট” স্লোগানে সানসেইতো নামের ডানপন্থি দলও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

জনমতও বদলাচ্ছে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে যেখানে ৩৫ শতাংশ মানুষ বিদেশি গ্রহণে আপত্তি জানিয়েছিল, ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ শতাংশে।

আব্দুল বলেন, “আগে কখনো বৈষম্য অনুভব করিনি। কিন্তু এখন বিশেষ করে অনলাইনে বিদেশিদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য বাড়ছে।” নেলকিনও বলেন, “মানুষ প্রকাশ্যে বিদেশিদের অপছন্দ করছে। আমি নিয়ম মেনে কাজ করেছি, তবু বলছে তুমি যথেষ্ট নও। এটা খুব কষ্টের।”

জাপান এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। শ্রমঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন, কিন্তু কঠোর নীতি ও সামাজিক বিরূপতা তাঁদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে। প্রশ্ন উঠছে— জাপান কেমন সমাজ গড়তে চায়, যেখানে বিদেশিরা শুধু শ্রম নয়, সমাজের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

Logo